ঙ্গোপসাগরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে জল ডাকাতেরা। গত দুই দিনে ভোলার চরফ্যাশন ও দৌলতখানের ১৫ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে ডাকাতেরা। জন প্রতি দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিও করেছে তারা।
এ অবস্থায় ডাকাতদের অত্যাচারে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন জেলে ও মৎস্যজীবীরা। তবে এসব ঘটনায় ভয়ে ট্রলার মালিকরা সংশ্লিষ্ট থানায় এখনো কোনো অভিযোগ করেনি।
ঢালচর মৎস আড়ৎদার নান্নু মাতব্বর জানান, শুক্রবার সকালে মো. আলী মাঝির ট্রলারের জেলেরা সাগরের রাক্ষুসিয়া পয়েন্টে মাছ শিকার করছিলেন। এ সময় একদল ডাকাত তাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অস্ত্রের মুখে আলী মাঝিকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে তারা।
কুকরী-মুকরী মৎস্য আড়ৎদার মো. সাত্তার জানান, শনিবারে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিলন মাঝি (৩৫) ও হারুন মাঝি (৪০) অপহৃত হয়েছেন। তবে এ দুই ট্রলারের মাঝিমাল্লারা ফিরে আসলেও গত দুই দিনে অপহৃত জেলেদের সন্ধান মেলেনি।
এ বিষয়ে দক্ষিণ আইচা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম জানান, ডাকাতি কিংবা জেলে অপহরণের খবর শুনেছি তবে জেলেদের পক্ষ থেকে পুলিশকে কেউ জানায়নি।
এদিকে, সাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে ডাকাতদের কবলে পড়েছে দৌলতখানের বিভিন্ন এলাকার জেলেরাও। ওই উপজেলার চারটি ট্রলারসহ অন্তত ১০-১২ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে ডাকাতেরা।
হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, ডাকাতেরা উপজেলার সিরাজ, ফয়সাল, আনিছুল হক ও কাজলদের চারটি ট্রলার নিয়ে গেছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি ট্রলার ছিনতাই ও জেলে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো আলম জানান, ডাকাতির কোনো অভিযোগ পুলিশকে কেউ জানায়নি। তারপরও এ বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
এদিকে, মুক্তিপণ দিয়ে ডাকাতদের হাত থেকে অপহৃত জেলেদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে ট্রলার মালিকরা। তবে তাদের অব্যাহত হুমকির মুখে পুলিশ কিংবা সংবাদকর্মীদের জানাতে ভয় পাচ্ছেন তারা।
চলতি মৌসুমে ইলিশা নদী ও সাগরে তেমন ইলিশ ধরা না পড়লেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বেশ কিছু ডাকাত বাহিনী। তাদের ভয়ে অনেক জেলেই নদীতে মাছ শিকারে যেতে ভয় পাচ্ছে।
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





