দূর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্নসাতের অভিযোগ এনে রাষ্ট্রীয় কোম্পানী মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ আশরাফ উজ্জামানের প্রত্যাহার ও শাস্তির দাবি করেছে চট্টগ্রাম নাগরিক অধিকার সংগ্রাম পরিষদ ও জাতীয় তেল সম্পদ রক্ষা কমিটি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের বর্ধিত হলরুমে রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নাগরিক অধিকার সংগ্রাম পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, দূর্নীতিবাজ এ এমডি বিভিন্ন সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় বারবার অবৈধভাবে পদোন্নতি নিয়ে এ পর্যায়ে এসেছেন।

এমডি হিসেবে দায়িত্বপালন কালে বিভিন্ন সময় কর্মকর্তা-কর্মাচারীদের নিয়োগ দিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়, বিক্রয়, সংস্কার, বোর্ড মিটিংয়ের ভুয়া ভাউচার তৈরি, বদলী ‘বাণিজ্য’, ‍ডিলার এজেন্টদের সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন।

ঢাকার পরিবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারের ম্যানেজার পদে আস্থাভাজন লোক নিয়োগ দিয়ে তিনি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

কোম্পানীর ২২ টি তেল ডিপো থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজিরও অভিযোগও করা হয়েছে এমডির বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, খুলনার মহেস্বরপাশায় মেঘনার পরিত্যাক্ত ভূমিতে বসবাসরত ২৫৪টি বস্তি পরিবারের নিকট হতেও তিনি কোটি টাকার চাঁদাবাজি করেছেন।

এছাড়া মিটিং এর নাম করে তিনি যেমন অফিস করেন না, তেমনি গত ৩ বছরে ভারতে ৫ বার, দুবাইয়ে ২ বার, মালয়েশিয়ায় ৪ বার, থাইল্যান্ডে ৩ বারসহ সিঙ্গাপুর, জার্মানী, ফ্রান্স ও ইতালী ভ্রমণ করেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এমডি শরফি বিদুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের ক্লাসমেট পরিচয় দিয়ে তিনি বিভিন্নজনকে ব্লাকমেলিং করে অর্থ উপার্জন করছেন।

পাশাপাশি রিহাবের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি মন্ত্রীর হামিদ কনস্ট্রাকশনকে ঢাকার মতিঝিলে ৪০ তলা ও চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ২০ তলা ভবনের কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে আমরা শুনেছি।

এদিকে তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীর অভিযোগও আনা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি মোস্তাক ভাসানী সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএ/এমএইচ