সারাদেশ ব্যাপী ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের ভরাডুবিতে উখিয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। জয়জয়কার আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

নির্বাচনী আমেজে ভরা প্রাণচাঞ্চল্য মুখর ৫ ইউনিয়নে প্রায় ১৮ প্রার্থী আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দাবি করে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছে। বিশেষ করে এসব সম্ভাব্য প্রার্থীরা উপজেলাভিত্তিক দলীয় হাইকমান্ডের মনোরঞ্জনের মাধ্যমে নৌকা প্রতীক ছিনতাই করার জন্য দেন দরবার, তদবীর, লবিং চালিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে।

সরেজমিন ৫নং পালংখালী ইউনিয়ন ঘুরে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএ মনজুর দলীয় মনোনয়ন লাভে সক্ষম হলে ইউপি নির্বাচনে তার কোন বিকল্প নাই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে সম্ভাব্য আওয়ামীলীগের এ তরুন চেয়ারম্যানপ্রার্থী সাংবাদিকদের জানান, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রতিপক্ষ বলতে কেউ নেই। নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেলে তিনি অবশ্যই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচিত হলে দীর্ঘ দিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা আনজুমানপাড়া ২৫৬ একর বিতর্কিত জমির স্থায়ী সমাধান করে এলাকায় একটি সুখী, সুন্দর সমাজ গঠনে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এছাড়া অত্র ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মকতুল হোসেন এমএর উত্তরসূরী শাহাদত হোসেন জুয়েল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আহমদ ও ইউপি সদস্য শুক্কুর মেম্বার আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী দাবী করে পাড়া মহল্লায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রাজাপালং ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীতা প্রায় নিশ্চিত দাবি করে সাংবাদিকদের জানান, তিনি এলাকায় স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, সাইক্লোন সেন্টার, ব্রীজ, কালভার্ট, সড়ক, উপ-সড়ক, আঞ্চলিক সড়ক, গ্রামীণ সড়ক, হাট-বাজার ও কবরস্থান সংস্কারসহ ৫ বছরে ২০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন। আগামী ৫ বছরের জন্য জনগণ তাকে নির্বাচিত করলে রাজাপালং ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতে যানবাহন ব্যবহার করে আসা-যাওয়ার উপযোগী করে তোলা হবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এ ইউনিয়নে অন্য কোন দলীয় প্রার্থীতা না থাকায় তিনি খোশ মেজাজে নীরবে, নিভৃতে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রতপালং ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকার শীর্ষে রয়েছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি কবি আদিল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আবুল মনসুর চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনকি সম্পাদক নুরুল হুদা। এ তিনজনের মধ্য থেকে যে কেউ একজন নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করলে সে বিজয়ী হওয়ার শতভাগ আশাবাদী বলে মনে করছেন এলাকার ভোটাররা।

হলদিয়াপালং ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে ইতিমধ্যে যারা তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে হাইকমান্ডের মন জয় করার চেষ্টা করছে তার মধ্যে অন্যতম বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মিন্টু জানান, ঘরের শত্রু বিভীষণ। তা নাহলে এ ইউনিয়নে তার কোন বিকল্প নাই। তিনি বলেন, গত ৫ বছরে তিনি তার পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এছাড়া এ ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল হক আমিন, ইমরুল কায়েস চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ও অধ্যক্ষ শাহা আলম নৌকা প্রতীকে বৈতরণী পার হওয়ার জন্য জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে জালিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এস.এম. ছৈয়দ আলম, কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি কায়সার ও রাসেল আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। তবে এখানে শেষ পর্যন্ত এস.এম. ছৈয়দ আলম নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারে বলে একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন। এলাকার প্রবীণ রাজনীতিবিদদের নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, রাজাপালং ইউনিয়ন ব্যতীত অন্য ৪টি ইউনিয়নে সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির আশিবাদের উপর নির্ভর করছে চেয়ারম্যান নির্বাচনের জয়-পরাজয়।

 

এমআইএস।