নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৬ জনের মধ্যে ৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের সদস্যরা। উদ্ধার কাজ চলা অবস্থায় জামরুল ইসলাম নামে নিখোঁজ এক ব্যক্তি ফিরে এসেছে। আর কোনো নিখোঁজ ব্যক্তি না থাকায় বুধবার বিকেলে উদ্ধার কাজের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে একই সঙ্গে অতগুলো প্রাণহানিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ নিয়ে অনেক স্বজনকে আহাজারি করতে দেখতে গেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বিলমাড়িয়া খেয়া ঘাটের অদূরে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে পলাশীর চরে যাওয়ার সময় পদ্মা নদীর মাঝে নৌকাটি ডুবে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।

মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে ডুবুরি দলের উদ্ধার কাজ। সন্ধ্যা ৭ টার দিকে আলো স্বল্পতা ও নদীতে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেন স্থানীয় প্রশাসন।

রাতের উদ্ধার কাজের বিরতি শেষে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করে ডুবুরি দল। অভিযানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লালপুরের তিলকপুর এলাকা থেকে চকবাদকৈইয়া গ্রামের লালচাদ আলীর ছেলে জামাল হোসেন, বেলা ১২টার দিকে লালপুর সদর এলাকায় মহরকয়া গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আজেদ আলী, দুপুর আড়াইটার দিকে বাকনা এলাকা থেকে মৃত রহমান আলীর ছেলে চান্দের আলী এবং বেলা পৌনে ৩ টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ৩ কিমি দুরে মাধবপুর থেকে মহরকয়া গ্রামের তালুকদারের ছেলে ভাষান আলীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থলের আধা কিলোমিটার দূর থেকে বেলাল হোসেন নামে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে উদ্ধারকারীরা।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের স্টেশন অফিসার ও ডুবুরি দলের সদস্য ওমর ফারুক জানান, দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার অভিযানে মোট ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এনিয়ে নিখোঁজ ৬ জনের মধ্যে ৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে একজন জীবিত অবস্থায় ফিরে আসায় এবং এলাকায় আর নিখোঁজ না থাকায় উদ্ধার অভিযান বিকেল ৪টার দিকে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

লালপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম উদ্ধার অভিযান সমাপ্তের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ৫ জন নিখোঁজের সবার মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অনুদান পেলে নিহতের পরিবারকে সহায়তা করা হবে।

এম এ