কুষ্টিয়ায় বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। গত ৫ জানুয়ারি লাগাতর অবরোধ কর্মসূচীর পর থেকে কুষ্টিয়ায় অনেকটা ছন্নছাড়া দলে পরিণত হয়েছে বিএনপি।

দলের ত্যাগী নেতাদের বেশির ভাগই জেলে আছে। বাকিরা মামলার আসামী হয়ে বাড়ি ছাড়া। তবে সুবিধাবাদীরা আছেন বহাল তবিয়তে। ঠিকাদারি ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থায় পদ-পদবী পর্যন্ত পেয়ে যাচ্ছেন। আর এ অবস্থায় তৃণমূল কর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ জেলা নেতৃত্বের ওপর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, জেলা বিএনপি এখন নেতৃত্বশূন্য। সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন গ্রেফতার হওয়ার পর সবাই পালিয়ে গেছে। সোহরাব উদ্দিন গ্রেফতারের পর মিছিল মিটিংতো দুরে থাক ভয়ে একটি বিবৃতি পর্যন্ত কেউ দেয়নি।

সূত্র জানায়, অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচী চলাকালে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। এতে জেলা ও সদর থানা বিএনপির নেতা-কর্মীদের আসামী করা হয়। মামলার পর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন, সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলামসহ দলের প্রায় অর্ধশত নেতা গ্রেফতার হন।

যেসব নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন তাদের বেশির ভাগই সোহরাব সমর্থক। সদর উপজেলার তিন ইউপি চেয়ারম্যানও নাশকতার মামলায় জেলে আছেন। শীর্ষ নেতারা মাঠে না থাকায় বাকিরা গ্রেফতারের ভয়ে গাঁ ঢাকা দেন। এরপর কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি আর কোন কর্মসূচী পালন করেনি। তবে ব্যতিক্রম ছিল স্বেচ্ছাসেবক দল। হাতেগোনা হলেও স্বেচ্ছাসেবক দল বিভিন্ন কর্মসুচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপিতে ত্যাগী নেতারা চরম বেকায়দায় আছে। বেশির ভাগই জেলে। আর বাকিরা গ্রেফতার এড়াতে দিনের পর দিন বাড়ি ছাড়া। তবে দলের অনেক নেতা এখন বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে, হামলা-মামলা থেকে বাঁচতে দলের অনেক নেতা আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত কয়েক হাজার কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

তথ্যমতে, সম্প্রতি সদপর উপজেলার হরিণারায়নপুর ইউনিয়নে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলীকে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে দুই শতাধিক বিএনপির নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে।

এছাড়া জেলা, উপজেলা ও শহর বিএনপির অনেক নেতা গা বাঁচিয়ে চলছেন। সদর থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এসএম ওমর ফারুকও বহাল তবিয়তে আছেন। তার ব্যবসা বাণিজ্যে কোন ভাটা পড়েনি।

এছাড়া শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিনও জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার আত্মীয় হওয়ায় শহরে থাকতে পারছেন এবং ঠিকাদারি কাজ করছেন। তবে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায় না।

পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক অ্যাডভোকেট শামীম-উল হাসান অপু, ছাত্রদল নেতা এসএম কামাল হোসেন, সদর উপজেলা বিএনপি নেতা রবিউল আওয়ালসহ অনেকে।

এদিকে জেলে আটক নেতাকর্মীরা দলীয় ভাবে কোন সহয়তা পাচ্ছে না অভিযোগ করেছেন অনেকের পরিবার। আব্দালপুর ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির নেতা ওবাইদুল ইসলামের পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছেন দলের পক্ষ থেকে কোন খোঁজ খবর নেয়া হয়নি।

ইতিমধ্যে ধার দেনা করে অর্ধলক্ষ টাকা খরচ করেছেন তার পরিবারের লোকজন। আইনী সহয়তার বিষয়টি বিএনপি নেতা কুতুব উদ্দিন বলেন, দলের নেতা-কর্মীরা যারা জেলে আছে তাদের আইনী সহয়তা দেয়া হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে একটি টাকাও দেয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

আর ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ সত্য নয়। অনেকের সঙ্গে ব্যক্তি যোগাযোগ থাকতে পারে। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলামও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লাও গাঁ বাঁচিয়ে চলছেন। তবে বিভিন্ন সময় যারা দলের পদ-পদবী নিতে দলের মধ্যে গ্রুপিং তৈরি করেছেন বর্তমানে তাদের অনেকে আন্দোলন সংগ্রামে খোঁজ মেলেনি।

স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক অ্যাডভোকেট শামীমউল হাসান অপু বলেন, দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মীকে হয়রানী করছে পুলিশ। তারপরও সাধ্যমত রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করার চেষ্টা করেছি।

এমকে