একমাস বর্ষাবাস শেষে খাগড়াছড়ি জেলার সাংকস নগর আলুটিলায় নবগ্রহ ধাতু চৈত্য বৌদ্ধ বিহারে বৃহত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এ উৎসব শুরু হয়ে দিনব্যাপী চলে।
কঠিন চীবর দানোৎসবকে ঘিরে আলুটিলা পাহাড়ি-বাঙালির মিলন মেলায় পরিণত হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব সমাপ্ত হয়েছে।
সকালে ভিক্ষু সংঘের আরোং ছুয়াইং (প্রাতঃ রাশ), ধর্মীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, সম্মিলিত বুদ্ধ পূজা, ভিক্ষু সংঘের আসন গ্রহন, পঞ্চশীল গ্রহন, বুদ্ধ মুর্তি দান, সংঘ দান, অষ্ট পরিস্কার দান, হাজার বাতি দান, ধর্মদেশনা, ভিক্ষু সংঘের পি-দান, দায়ক-দায়িকা বৃন্দের ভোজন অনুষ্ঠিত হয়।
বৌদ্ধ বিহারের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. চন্দ্রমনি মহাস্থবির সভাপতিত্বে প্রধান ধর্মদেশনা দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের ডীন ড. জীন বোধি মহাস্থবির।
এছাড়া পার্বত্য বৌদ্ধ মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ সুমনা লংকা মহাস্থবির, বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ ড. সুবর্নালংকার মহাথের, রামগড় মহামুনি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ সুবনা মহাথেরো, মংগলচারন য়ংড বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ অগ্রবংশ মহাস্থবির, দানপর্ব পরিচালনায় আমতলী বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ খেমাসারা স্থবির, নুনছড়ি উদিনা পালিটোল বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ উইচারা ভিক্ষু ধর্মদেশনাসহ উপস্থিত অতিথি ভান্তে, ভিক্ষু ও শ্রমনরা ধর্মদেশনা দিয়েছেন।
পরে দায়ক-দায়িকা ধর্মীয় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চাইথোঅং মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাসুদ করিম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান বিউটি রানী ত্রিপুরা, উদযাপন কমিটি’র আহবায়ক প্রিয়তর চাকমা ও সদস্য সচিব উষা মারমা। এছাড়া সন্ধ্যায় ভান্তেদের উদ্দেশ্যে কঠিন চীবর উৎসর্গ, হাজার প্রদীপ পুজা ও আকাশ প্রদীপ উড়ানো হয়েছে। দুর্লভ লিচুওয়া পাইং বা নুহঃছিড়ি পাইং দান করা হয়।
কঠিন চীবর দানোৎসবের শেষ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জীপ ও বাসযোগে হাজার হাজার বৌদ্ধ ধর্মালম্বী এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আলুটিলায় আসেন। বৌদ্ধ বিহারের কাছে পর্যটন এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়।
বৃহস্পতিবার আলুটিলা আলোক নবগ্রহ ধাতু চৈত্য বৌদ্ধ বিহারে বৃহত্তম কঠিন চীবর দানোৎসম ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্ধারিত থাকায় জেলা জামায়াতে ইসলামী জেলার ৯টি উপজেলায় হরতাল কর্মসূচি প্রত্যহার করে।
জেআই





