ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে ১৬টি শর্ত পূরণ করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।
রোববার নিউ ইয়র্কের উডসাইডে গুলশান ট্যারেসে মজীনাকে দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
মজীনা বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বের সেরা তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই বাংলাদেশী তৈরি পোশাকের ব্র্যান্ড সমগ্র বিশ্বে প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে পরিণত হবে। বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে ১৬টি শর্ত পূরণ করতে বলা হয়েছে, যা পূরণ করতে বাংলাদেশ যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর পরিদর্শন ক্ষমতা বাড়াতে  প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিদর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাও এ ব্যাপারে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।”
বাংলাদেশে যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে তাতে দেশটির অগ্রগতি ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের ভবিষ্যত অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং আমি বাংলাদেশ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
ডব্লিউ মজীনা বলেন, “বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অংশীদার এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র সকল ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে আমরা দুর্যোগের দেশ হিসেবে জেনে এসেছি। কিন্তু এখন আগের বাংলাদেশ নেই। সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ যে অচিরেই একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে তাই নয়, বাংলাদেশই হবে পরবর্তী এশিয়ান টাইগার এবং দেশটির জনগণই এটি সম্ভব করে তুলবে।”
মজীনা আরো বলেন, “দারিদ্র দূরীকরণে, জনগণের জীবন মানের উন্নয়নে, জীববৈচিত্র রক্ষায়, জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকে বাংলাদেশকে  একটি টেকসই অবস্থায় উপনীত করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহায়তা করে যাচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে ৫৪৭টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণে সহায়তা করেছি এবং আরো ১৩০টি শেল্টার নির্মাণের কাজ চলছে। প্রতিটি শেল্টারে ১৮শ লোক সাইক্লোনের পূর্বাভাস পাওয়ার পর আশ্রয় নিতে পারবে।”
আলোচনা পর্বের পর বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ পারফর্মিং আর্টস’র (বিপা)  শিল্পীরা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য পরিবেশন করেন।
[b]ঢাকা, ১৭ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]