কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে তিন নারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার ভোরে উপজেলার বামনপাড়ার একতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় দুটি সুইসাইড ভেস্ট, গানপাউডার ও বিপুল পরিমাণ বোমা উদ্ধার করা হয়। কুষ্টিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানিয়েছেন, আটক তিন নারীর মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিথি নামের ওই নারী নব্য জেএমবি প্রধান আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী।
এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে আসা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ যৌথভাবে ভেড়ামারার বামনপাড়ার ওই বাড়ি ঘিরে রেখে অভিযান চালায়।
গত ৪ জুন ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, মুসা নিহত হওয়ার পর আইয়ুব বাচ্চুকে নব্য জেএমবির প্রধান করা হয়েছে।
আইয়ুব বাচ্চুর তিন সহযোগী- মনির হোসেন ওরফে সুমন, তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তুহিন ও কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সুমন ও তুহিনকে সাভার থেকে এবং কামালকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নব্য জেএমবির প্রধান মইনুল ওরফে মুসা মৌলভীবাজারের বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় নিহত হন। এরপর সংগঠনের হাল ধরেন আইয়ুব বাচ্চু। এটা তার ছদ্মনাম। তিনি সাভারেই থাকতেন। গত ২৭ ও ২৮ মে সাভারে যে দুটি বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল, তার একটিতে থাকতেন আইয়ুব বাচ্চু। অভিযানের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। অভিযানের খবর পেয়ে জঙ্গি মনির হোসেন দ্রুত আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রীকে অন্যত্র সরিয়ে দেন।’
তিনি বলেন, ‘তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর নব্য জেএমবির দায়িত্ব নেন সারোয়ার জাহান। সারোয়ার নিহত হওয়ার পর নেতৃত্বে আসেন মইনুল ওরফে মুসা। মৌলভীবাজারের বড়হাটে পুলিশের অভিযানে মুসা নিহত হন। এরপর নেতৃত্বে আসেন আইয়ুব বাচ্চু।’
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কথিত এই আইয়ুব বাচ্চু মূলত তৃতীয় বা চতুর্থ সারির নেতা। তিনি মুসার সহযোগী ছিলেন। মুসা যখন সংগঠনের আমীর ছিলেন, তখন বাচ্চু ছিলেন নায়েবে আমীর। মুসা নিহত হওয়ার পর নেতৃত্বশূন্যতায় বাচ্চুকেই হাল ধরতে হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, আইয়ুব বাচ্চুই তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বয়স ২৬ থেকে ২৭-এর মধ্যে। বাচ্চুর ছবিও পুলিশ পেয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, গত মার্চে সিলেটের আতিয়া মহলে অভিযানের সময় আইয়ুব বাচ্চু সিলেটেই ছিলেন। তার বাসা ছিল আতিয়া মহলের কাছাকাছি। সেখানে তার একটি সন্তানও হয়। আতিয়া মহলে অভিযানের পরে তিনি পরিবার নিয়ে পালিয়ে সাভারের গেন্ডা এলাকার বাসায় ওঠেন।
আইয়ুব বাচ্চু ঢাকার একটি ভালো কলেজে পড়তেন। পরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তবে পড়াশোনা শেষ করার বছর দু’য়েক আগেই তিনি জঙ্গিবাদে যুক্ত হয়ে ঘর ছাড়েন।
জারিফ





