শীত আসছে। অথচ বরিশালের গ্রামাঞ্চলে এখনও গাছির দেখা মিলছে না। দিনে দিনে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় গাছিদের তৎপরতাও কমে যাচ্ছে।

এসময় বরিশালের গ্রামগুলোতে অনেক খেজুর গাছ দেখা যেত। শীত এলেই ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গাছিরা। রস সংগ্রহের জন্য দিন-রাত ব্যস্ত থাকতেন তারা।

কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের অনেকে জানেন না কীভাবে রস সংগ্রহ কিংবা খেজুর গাছ কেটে হাড়ি ঝুলিয়ে দিতে হয়। কারণ, খেজুর গাছ কমে যাওয়ায় তারা যেমন রসের স্বাদ নিতে পারছেন না, তেমনই জানতে পারছেন না গাছ থেকে রস সংগ্রহের কলাকৌশল।

যারা আগে গাছি ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। অনেকেই অন্য পেশায়  চলে যাওয়ায় তাদের আর দেখা মেলে না খেজুর গাছের আশেপাশে।  

এমনই এক গাছি সদর উপজেলার চরবাড়ীয়ার আয়েজ উদ্দিন মিয়া। এখন তার বয়স ৬৭ বছর। আগে শীত মৌসুমে খেজুর গাছ লিজ নিয়ে রস সংগ্রহ করতেন। শীত মৌসুমে এটাই ছিল তার পেশা। কথা হয় তার সঙ্গে।

আয়েজ উদ্দিন মিয়া জানান, তিনি ও তার বাবা সোনা মিয়া এবং দাদা সৈয়দ আলী মিয়া শীত মৌসুমে খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অন্য মৌসুমে কৃষি কাজ করতেন। এখন এই পেশা আর ধরে রাখতে রাজি নন তার বংশরধররা।

আয়েজ উদ্দিন মিয়ার ৩ ছেলে। ছেলেদের মধ্যে দুজন ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী। একজন এখনও লেখাপড়া করছেন। তাদের কেউই গাছি হতে আগ্রহী নন।

আয়েজ উদ্দিন মিয়া আরো জানান, কয়েক বছর আগেও প্রতিদিন একশ/দেড়শ খেজুর গাছ থেকে তিনি রস সংগ্রহ করতেন। প্রতি হাড়ি রস ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করে দৈনিক আয় হতো দুই হাজার টাকারও বেশি। শীতের পুরো মৌসুমে তিনি প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করতেন। শুধু রসই বেচতেন, তা নয়। মাঝে মধ্যে রস দিয়ে মিঠাই তৈরি করতেন। আর সেই মিঠাই বাজারে বাজারে বিক্রি করতেন তিনি। চরবাড়ীয়াবাসী তাকে ‘মিঠাওয়ালা’ হিসেব চেনেন।

মৌসুম শেষ হয়ে গেলে অলস সময় কাটে তার। বর্তমানে তিনি বয়সের ভারে ন্যুব্জ।

তিনি বলেন, ‘শুধু আয়ের জন্যই নয়, গাছ থেকে রস আহরণ করাটা ছিল শখ। এখনকার যুবকরা চেষ্টা করলেও এই কাজটি পারবেন না। রস সংগ্রহ করতে গিয়ে বর্তমান সময়ের ডিজিটাল গাছিরা গাছ মেরে ফেলছে।’

জেআই