বাজেট পরবর্তী ভোজ্যপণ্য ও সবজির বাজারে অবস্থা কেমন? এ প্রশ্নের উত্তর খুজতে রাজধানীর বাজারে বিভিন্ন সবজির মূল্য তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। বাজার ঘুরে দেখাগেছে স্বাভাবিকভাবে পাইকারি বাজারের মূল্যের চেয়ে খুচরা বাজারে দর আগের মতই দ্বিগুণ।
এক্ষেত্রে চালের বাজারের সবচেয়ে কম মূল্যের চাল স্বর্ণার মূল্য ৩২ টাকা রয়েছে। সাধারণ মিনিকেট চালের মূল্য ৪২ থেকে ৪৫ টাকা। এবং চিনিগুরা চালের দাম প্যাকেটজাত ১০০ টাকা আর খোলা ৮০ টাকা। আর কালজিরা চাল খোলা ৯০ টাকা।
রমজানকে সামনে রেখে ইন্ডিয়ান রসুন ১১০ টাকা আর দেশি ১২০ টাকার মধ্যে। পিয়াঁজের মূল্য দেশি ৪৫ টাকা আর ইন্ডিয়ান ৪০ টাকা।
দেশি মসুর ডাল ১১৫-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর ইন্ডিয়ান ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। আর আদার মূল্য চায়না ১৪০ টাকা এবং দেশি আদা ১১০ টাকা।
ভোজ্য তেলের মধ্যে সয়াবিন পাঁচ লিটার মান ভেদে ৪৫০ - ৪৮০ টাকা পর্যন্ত।
ইন্ডিয়া থেকে গরু আমদানি বন্ধ থাকায় মাংশের মূল্য বেশি হওয়াতে মাছের বাজারে ক্রেতার চাপটা একটু বেশি লক্ষ করা গেল। কেজি প্রতি ৩৮০ থেকে ৫০০টাকা। আর দেশি মুরগির কেজি ৩০০, পাকিস্তানি কক ২৮০, ব্রয়লার ১৭০, লিয়ার মুরগি ১৭৫টাকা বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে ভোজন রসিকদের জন্য রয়েছে স্বাদের ইলিশ , হালি প্রতি মূল্য হাঁকা হচ্ছে ৩২০০ টাকা, কষাকষির পর ৩০০০ টাকায় দিতে সম্মত হচ্ছেন। আর বোয়াল মাছের কেজি প্রতি ৭০০ থেকে ৬০০ টাকা।
এ ক্ষেত্রে কোরাল মাছের মূল্য একটু বেশি , একদাম ৭০০টাকা। বড় রুইমাছ কেজি প্রতি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। টেংরা মাছ জীবিত ৬০০ টাকা আর মাঝারি বা ছোট ৫০০ থেকে ৩০০ টাকা। চিংড়ি মাছের মূল্য বড় কেজি প্রতি ৭০০, আর ছোট ৪০০ টাকা।
নাইলোটিকা কেজি প্রতি ১২০ এবং পাঙ্গাশ কেজি প্রতি আকার ভেদে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা আর কাচকি মাছ কেজি প্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। চাষের কই ১৫০ টাকা নিচ্ছে তারা।
শাক-সবজির বাজারের রাজধানীর গরমের তীব্রতা এখনও লাগেনি। খাবার তালিকায় যারা সবজিকে অগ্রাধিকার দেন তাদের জন্য খবরটা মন্দ নাও হতে পারে। টমেটোর মূল্য রয়েছে ৩০ টাকার মধ্যে আর করলার মূল্য ৩৫ টাকা, কাকরুলের মূল্যও ৩০ টাকা। এক্ষেত্রে ঢেড়ঁশের মূল্য একটু কমেছে, ৩০ টাকা। শসা, ঝিঙ্গা, পটল, ধুন্দল, চিচিঙ্গার মূল্যও একই রয়েছে। তবে নতুন বেগুনের মূল্য একটু বাড়তি, কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়।
আলু আর কাঁচা মরিচের মূল্য পাইকারি বাজারে খুচরা বাজারের চেয়ে প্রায় অর্ধেক মূল্য হলেও খুচরা বাজারে তার কোন প্রভাব নেই। কাওরান বাজারে যেখানে আলু কেজি প্রতি ১৫ টাকায় পাওয়া যায় সেখানে পাশর্বর্তী বা অন্যসব বাজারে সে আলু কেজি প্রতি ২০ টাকা আর কাচাঁ মরিচ ৪০ টাকা।
শাকের বাজার তেমন সুখকর মনে হয়নি, ডাটা আটি প্রতি ১৫টাকা আর লাল শাক, পাতা ডাটা, পাট শাক বড় আটি ১০টাকা। কলমীশাক আটি প্রতি ৫ টাকা। আর তানকুনি পাতার আটি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা করে।
রাজধানীর নিউমার্কেট বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আব্দুল বারি টাইমনিউজ বিডিকে জানান, কাওরান বাজারে সবজির মূল্য অনেক কম।
কিন্তু খুচরা বাজারে দ্বিগুণ দাম নিচ্ছে, দু'এক কেজি সবজির জন্য তো কাওরান বাজারে যাওয়া যায় না, তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, আমাদের কিছু করার নেই।
সবজি বিক্রেতা স্বপন জানান, দোকান ভাড়া, দৈনিক খরচ সব মিলিয়ে আমাদের সবজি বিক্রি করতে হয়, মৌসূমে সবজির সরবরাহ আরো বাড়লে আশা করি মূল্য ও কমে আসবে।
ক্রেতা সাধারণ মনে করছেন বাজারে যদি সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি থাকে, তাহলে আরো কম মূল্যে নিত্যপণ্য ও সবজি কিনতে পারবে।
রমজানকে সামনে রেখে এখন থেকে মাছ-মাংশ ও সবজির বাজার মূল্য বাড়াচ্ছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ি, সরকারের পক্ষ থেকে যদি বাজার নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে বিক্রেতারা বাজার মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে বিক্রি করার সুযোগ পাবে।
এএইচ





