বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা ও নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট রোববার। এ উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছে সব প্রস্তুতি।
ভোটগ্রহণ উপলক্ষে এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. দুলাল তালুকদার।
তিনি জানান, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি থাকছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, ৠাব, কোস্টগার্ড ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা।
এ উপজেলায় নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত অ্যাডভোকেট মুনসুর আহমেদ (দোয়াত কলম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন খান (কাপ পিরিচ), বিএনপি সমর্থিত সৈয়দ রফিকুল ইসলাম লাবু (আনারস), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম ওয়াহীদ হারুন (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অপরদিকে পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত খোরশেদ আলম ভুলু (উড়োজাহাজ), বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল জব্বার কানন (তালা), বিএনপি সমর্থিত জামায়াত নেতা সাইফুর রহমান (চশমা) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নারী ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত রওমান বিনতে শফিকুল ইসলাম রুমন (পদ্মফুল), বিদ্রোহী প্রার্থী আফরোজা কবীর শিউলী (প্রজাপতি), বিএনপি সমর্থিত মুনমুন আক্তার রুবী (ফুটবল), বিদ্রোহী প্রার্থী চৌধুরী শরিফা নাসরিন শামিম হায়দার (কলস), স্বতন্ত্রপ্রার্থী আলেয়া বেগম (হাঁস) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫শ’ ৭৯ জন। উপজেলার কাজীরহাট থানার ১৯টি ও মেহেন্দীগঞ্জ থানার ৫৫টিসহ মোট ৭৪টি ভোটকেন্দ্রের ৮শ’ ৯৯টি বুথে ভোট গ্রহণের জন্য ৬শ’ ২ জন প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।
আটপাড়া উপজেলায় এ উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছে সব প্রস্তুতি। জেলা রিটার্নিং অফিসার ড. মাহে আলম জানান, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৫১টি। যথাসময়ে সব কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্নে রাখা হয়েছে সেনা সদস্য, বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ স্ট্রাইকিং ফোর্স।
তিনি আরও জানান, সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীন বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল সংরক্ষণে জেলা ও উপজেলায় আলাদা দুটি কন্ট্রোলরুম চালু থাকবে। ভোটকেন্দ্রের ফলাফল আসার সঙ্গে সঙ্গেই সেখান থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হয়েছেন খায়রুল ইসলাম (দোয়াতকলম)। তার সঙ্গে একই দলের তিন বিদ্রোহী প্রার্থী নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।
তারা হলেন, কেশব রঞ্জন সরকার (মোটরসাইকেল), আবু সাঈদ খান (টেলিফোন) ও খায়রুল ইসলাম (কাপপিরিচ)।
অপরদিকে বিএনপি থেকে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন রফিকুল ইসলাম রফিক। তার প্রতীক আনারস। তার সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জহিরুল ইসলাম খান মাজু।
তার নির্বাচনী প্রতীক ঘোড়া। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে কেশব রঞ্জন সরকার ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জহিরুল ইসলাম খান মাজুকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, জামায়াত সমর্থিত দেলোয়ার হোসেন (তালা), আওয়ামী লীগ সমর্থিত আবু রেজা মাহবুব (বই), আসাদুজ্জামান চন্দন (বৈদ্যুতিক বাল্ব), খলিলুর রহমান খান (মাইক), এসএম ঈশা খান (টিউবওয়েল), স্বতন্ত্র মুখলেচ্ছুজ্জামান একতেদা (জাহাজ), বিএনপি সমর্থিত আবুল কালাম আজাদ (চশমা) ও মাহমুদন্নবী (টিয়াপাখি)।
নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত তানিয়া নাজনীন চৌধূরী (কলস), শারমীন নূরী (পদ্ম ফুল), বিএনপি সমর্থিত একমাত্র প্রার্থী লিপি আক্তার রুনা (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।
স্থানীয়রা জানান, ভোটের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামলেও দু’দলেই বিদ্রোহী থাকার কারণে দলীয় নেতাকর্মীরা ছিলেন দ্বিধাবিভক্ত। একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী খায়রুল ইসলাম (দোয়াত কলম) ও বিএনপি দলীয় প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিকের (আনারস) মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হবে বলে ধারণা করছেন সবাই।
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর টাইমনিইজবিডি.কম, কেএ





