হবিগঞ্জের মাধবপুর সদর উপজেলায় টাকা না পেয়ে গালি দেওয়ায় দেবর ইসমাইলকে (৫) গলাটিপে হত্যা করেছেন বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ভাবী শাপলা বেগম (২০)।

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) দুপুর দেড়টায় হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র।

তিনি জানান, নিহত শিশু ইসমাইলের বড় ভাই জুয়েল মিয়ার স্ত্রী শাপলা বেগম হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে শাপলা উল্লেখ করেন, শিশু ইসমাইল প্রায় সময় তার কাছে টাকা চায়তো। টাকা না দিলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো। ঘটনার দিন ২৬ মার্চ সকালে ইসমাইল তার কাছে টাকা চায়। টাকা না দেওয়ায় ইসমাইল তাকে আবারও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ইসমাইলের গলাটিপে ধরলে শ্বাসবন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। তখন তিনি মরদেহ তার বাড়ির ধানের গোলার নিচে লুকিয়ে রাখেন এবং সুবিধাজনক সময়ে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুর রহমান মনির ও মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মো. মুনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

২৬ মার্চ সকালে মাধবপুর উপজেলা সদরের পশ্চিম মাধবপুর এলাকার রজব আলীর ছেলে ইসমাইল নিখোঁজ হয়। দুইদিন পর ২৮ মার্চ দুপুরে রজব আলীর বাড়ির ধানের গোলার মাচার নিচ থেকে পুলিশ ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পুলিশ ওইদিনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের বাবা-মা, ভাই ও ভাবীকে আটক করে। পরে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করায় ইসমাইলের ভাবী শাপলা ছাড়া অন্যদের পুলিশ ছেড়ে দেয়।

এ ঘটনায় ইসমাইলের বাবা রজব আলী তার বড় ছেলের বউ শাপলা বেগমকে একমাত্র আসামি করে মাধবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

ওএফ