বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় শনিবার দিনগত রাতে বয়ে যাওয়া ঝড়ে পাকা ধান, গাছপালা ও একটি বিদ্যালয়সহ দু‘টি ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামে কমপক্ষে দুই শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশকিছু বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় এসব এলাকার প্রায় ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।

রোববার বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলা ঘুরে ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শনিবার রাত সোয়া ১টার দিকে দুপচাঁচিয়ায় ঝড় শুরু হয়। এতে উপজেলার উত্তরাঞ্চলের চামরুল ও জিয়ানগর ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামের দুইশতাধিক বাড়ির টিনের চাল ও ছাউনি উড়ে যায়। এরমধ্যে জিয়ানগরের খিদিরপাড়া, লক্ষ্মীমন্ডব, বিষা, বারাদিঘী, সোনারপাড়া, কালাইকুড়ি, জলঙ্গি এবং চামরুলের বেড়ঞ্জ, দোবলাপাড়া, কোলগ্রাম, পোথাট্টি, চামরুল, জোয়ালমাটাই গ্রাম অধিক ক্ষতি হয়েছে।

এসব এলাকার পাকা বোরো ধান মাটিতে পড়ে গেছে। ভেঙে গেছে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির কয়েকশ’ গাছ। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চামরুল ইউনিয়নের বেড়ঞ্জ দ্বিমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাটির ৬টি ঘর। এছাড়া, বিদ্যালয়টির ৩টি বড় আকারের কড়ি গাছ ঝড়ে উপড়ে গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুর রশিদ জানান, ঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

খিদিরপাড়া গ্রামের ছামসুদ্দিন ও গোলাম ফেরদৌস এবং বেড়ঞ্জ গ্রামের আশরাফ আলী জানান, সারাদিন ধান কাটার কাজ শেষ করে রাতে ঘুমানোর পর মধ্যরাতে প্রচণ্ড ঝড়ে বাড়ির টিনের চাল উড়ে যায় এবং জমিতে থাকা পাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়।

চামরুল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নের উত্তর এলাকার ওপর দিয়ে বেশ বড় আকারের ঝড়ই বয়ে গেছে। এতে বাড়ি-ঘর ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছেন তিনি।

দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুর রহমান খান বলেন, সকাল থেকেই সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। চেয়ারম্যানদের ক্ষতির তালিকা করতে বলেছি এবং জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবগত করেছি।

জেআই