চলমান শৈত্য প্রবাহ’র ফলে তীব্র শীতে কাঁপছে বাংলাদেশ। তীব্র শীতে গত এক সপ্তাহে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে ভর্তি হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হিম ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছে এ জনপদের মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। নদ-নদী তীরবর্তী ও শহরের দরিদ্র অসহায় মানুষ এক কাপড়ে পার করছেন এ কনকনে শীত।
তীব্র শৈত্যপ্রবাহে গত ৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙে দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গতকাল (সোমবার) হয়েছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায়। ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে তাপমাত্রা। সে তুলনায় আজ (মঙ্গলবার) শীতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। সকালে প্রাথমিকভাবে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দেশের বিভিন্ন জায়গার ওপর দিয়ে এখনো শৈত্যপ্রবাহ বইছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ ভোর ৬টার দিকে তেঁতুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া ঢাকার তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ থেকে বেড়ে আজ ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে।
১৯৬৮ সালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
আজ (মঙ্গলবার) কুড়িগ্রাম জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে ৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই হাসপাতালে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে ভর্তি হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এরা হলেন- সাবিহা (৪ দিন), আমেনা (৬৫), জাহানারা (৩০), খাদিজা (১ দিন), মিম (দেড় বছর), এমরাত জাহান (১৫ দিন), নয়নমনি (১ দিন), জিতিয়া (৬০ দিন), মিরাজ (৫ দিন), মাজেদা (১ দিন) ও শিউলী। সোমবার পর্যন্ত ১৮০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। শীতের কারণে শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুল হক প্রামাণিক জানান, গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ১১ জন রোগী মারা গেছে। এদের মধ্যে ২ জন বয়স্ক তাদের হার্টের অসুখ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল। বাকিরা শিশু। লোবাকোয়েট, নিউমেনিয়া ও জন্মের সময় সমস্যার কারণে মারা গেছে তারা।
কুড়িগ্রাম ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি শীত মোকাবেলায় ত্রাণ বিভাগ থেকে ৯টি উপজেলায় ৫৭ হাজার কম্বল সরবরাহ করা হয়েছে। যেগুলো বিতরণের প্রক্রিয়া রয়েছে।
এমবি





