যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ সংসদের উচ্চ কক্ষ হাউজ অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কার্লাইল।

বিশেষ করে সম্প্রতি ট্রাইব্যুনাল ও আপিল বিভাগ ঘোষিত জামায়াতের তিনজন শীর্ষ নেতার রায়ের ব্যাপারে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনারকে লেখা এক চিঠিতে তিনি এ উদ্বেগের কথা জানান।

ওই চিঠিতে লর্ড কার্লাইল মানবতা বিরোধী অপরাধে দন্ডাদেশ প্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ড মওকুফ করে তাকে সকল আইনী সুযোগ প্রদানের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে আমি যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। গত কয়েকদিনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ৩টি রায় প্রদান করেছে। বিরোধী রাজিনৈতিক দল জামায়াতের আমীরসহ দুই নেতাকে এই ট্রাইবুনাল থেকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আপীল বিভাগ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল কামারুজ্জামানের মামলায় তার প্রদত্ত রায়ে ইতোপূর্বে ট্রাইবুনালের দেয়া মৃত্যুদন্ড বহাল রেখেছে। এই সবগলো রায়ই আসলে ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ার বহি:প্রকাশ।

তিনি বলেন, কামারুজ্জামানের আপীলের রায় প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথেই দেশটির এটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর এখন সময়ের ব্যপার মাত্র।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন মহল রিভিউ আবেদন বা ক্ষমা চাওয়ার মত আইনী বিষয়গুলোকেও কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার সুযোগ দিবে না।

আমি মনে করি, যদি সরকার কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করার ব্যপারে কোন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে তবে তা এখুনি স্থগিত করা উচিত, কেননা আইনী প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। সেই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন না করলে কিংবা কামারুজ্জামানকে তার আইনী সুযোগ না দিয়ে তার ফাঁসি কার্যকর করা হলে তা হবে বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ডের শামিল।

এই মামলা এবং বিচার প্রক্রিয়া থেকে নানা মহল থেকে ইতোমধ্যেই অনেক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনও বার বার এই সব আইনী সংকটের সমাধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করা স্বত্বেও বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ এই ব্যপারে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

বিশেষ করে, ট্রাইবুনাল অভিযুক্ত পক্ষের সাথে বৈরী আচরন করা হয়েছে। ডিফেন্স স্বাক্ষী সংখ্যা সীমিত করে দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত পক্ষকে তাদের প্রয়োজন মোতাবেক ডকুমেন্টস ও প্রমানাদি আদালতে জমা দেয়ার সুযোগও দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, 'আমি কামারুজ্জামানকে রায়ের রিভিউসহ সব আইনী সুযোগ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও বিচার সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। একই সাথে নীতি বহির্ভুতভাবে ইতোমধ্যেই যে মৃত্যুদন্ডগুলো প্রদান করা হয়েছে তা মওকুফ করার জন্যও আমি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানাচ্ছি।'

জেএ