উম্মে কুলসুম কলি। খুব কম সময়ের মধ্যেই উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্টকার্ড পেয়েছেন। এতে খুব উচ্ছ্বসিত তিনি। তবে একটু পরেই তার সব উচ্ছ্বাস উড়ে গেলো। কারণ স্মার্টকার্ডে তার স্বামীর নাম নেই।

গত শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) উম্মে কুলসুম সেগুনবাগিচা হাইস্কুল ক্যাম্পে এসে এই নিয়ে মোটামুটি তুলকালাম কাণ্ডই করলেন। অনেক বুঝিয়েও অপারেটর তাকে শান্ত করতে পারছিলেন না। অবশেষে অন্য একজন অপারেটর এসে যখন বললেন-স্মার্টকার্ডের চিপের মধ্যে স্বামীর নাম আছে। এতে কোনো সেবা পেতে সমস্যা হবে না, তখন তিনি শান্ত হলেন। তবে বিড়বিড় করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গোষ্ঠী উদ্ধার যে করলেন সেটাই বোঝাই গেলো।


সেগুনবাগিচা এলাকায় উম্মে কুলসুম কলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেয়েরা সব জায়গায় সেবা নিতে গেলে মা এবং স্বামীর নাম চায়। পিতার নাম চাওয়া হয় না। এখন এই কার্ডের ওপরে স্বামীর নাম না থাকায় কত যে ঝামেলা হবে, কে জানে!’

একই অভিযোগ নিয়ে মুখ ভাব করে ফিরছিলেন হামিদা খাতুন হেনা। তিনি বলেন, ‘আগের কার্ডে তো স্বামীর নাম ছিলো। এইটার মধ্যে নাই। এমনিতেই আমার নামের বানান ভুল। তার ওপর স্বামীর নাম নেই। কী মুছিবত!’

এক ইসি কর্মকর্তা জানান, স্মার্টকার্ডের ওপরে স্বামীর নাম দেওয়া হয়নি। এটা মেয়েদের ভালোর জন্যই দেওয়া হয়নি। কেননা, অনেক সময় দ্বিতীয় বিয়ে করলে, স্বামীর নাম পরিবর্তন করতে হয়। এক্ষেত্রে পুরো কার্ডটাই পরিবর্তন করা লাগে। কিন্তু এখন স্বামী পরিবর্তন হলে বা তালাক জনিত কারণে তথ্য পরিবর্তন করলে, কেবল ইসির সার্ভারের তথ্য পরিবর্তন হবে। এতে কার্ডটি পরিবর্তনের আর প্রয়োজন পড়বে না।

আবার অনেকে বিয়ের আগে ভোটার হন। সেক্ষেত্রে বিয়ে হলে স্বামীর নাম যুক্ত করতে আবার কার্ড পরিবর্তন করতে হয়। এখন সেটাও আর করতে হবে না।

এদিকে ১০ ডিজিটের ইউনিক আইডি নম্বর নিয়েও বিভ্রান্তিতে পড়ছেন অনেকে। সাধারণ ভোটাররা বুঝতে পারছেন না, আগের ১৭ ডিজিটের এনআইডি নম্বর ব্যবহার করবেন, নাকি বর্তমান ১০ ডিজিটের নম্বর ব্যবহার করবেন। কেননা, ব্যাংক একাউন্টসহ বিভিন্ন দাফতরিক কাজে অনেকেই আগের নম্বরটি দিয়ে রেখেছেন।

এ বিষয়ে এনআইডি শাখার মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দিন বলেন, স্বামী নাম উপরে না থাকলে কোনো সমস্যা নেই। কার্ডের চিপে সে তথ্য রয়েছে। আর ১০ ডিজিটের এনআইডি নম্বরটিই ব্যবহার করতে হবে। আগে ১৭ ডিজিটের এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে থাকলেও কোনো সমস্যা হবে না। এক্ষেত্রে ব্যাংক বা অন্য প্রতিষ্ঠান ইসির সার্ভারের সঙ্গে তথ্য সমন্বয় করে নেবে।

গত ২ অক্টোবর স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর গত ৩ অক্টোবর থেকে ঢাকার দুই সিটির দু’টি থানা এবং কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরু করে ইসি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রমনা থানাধীন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের স্মার্টকার্ড বিতরণ চলছে সেগুনবাগিচা হাইস্কুল ক্যাম্পে। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা থানাধীন ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের স্মার্টকার্ড বিতরণ চলছে উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পে।

সূত্র: বাংলানিউজ