লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বহুল আলোচিত দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত অসহায় হতদরিদ্র লোকজনদের বসবাসের জন্য তিনদফায় ১৩০ পরিবারের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া উপহার এ গুচ্ছগ্রামে প্রথমে ৫০ ঘর লোক বেশ হাসিখুশি মন নিয়ে আশ্রয় নেন। অনেকের ধারনা ছিল,কাজ কর্মহীন এসব লোক বিশেষ ব্যবস্থায় রেশনিং পদ্ধতিতে সরকারের পক্ষ থেকে ভিজিএফ বা ভিজিডি পাওয়ার কথা।বিগত ৫ বছর ধরে এসব লোকের কোন খোঁজখবর নেয়নি কেউ। প্রতিবছর বন্যার সময় পরিবার প্রতি মাত্র ১০ কেজি চাল ছাড়া আর কিছুই জোটেনি কোপালে।

লোকালয় থেকে একটু দূরে তিস্তার চরে যেতে আসতে সময় লাগে ঘন্টাখানেক।বাজার এলাকা হলে হয়তো কেউ কেউ কাজ কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করার সুযোগ পেত ।বিচ্ছিন্ন দহগ্রামে কোথাও গড়ে ওঠেনি তেমন কোন শিল্প কলকারখানা।একারণে গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় নেয়া হতদরিদ্র এসব লোক পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। দেখার যেন কেউ নেই।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় আরও দুটি শেড নির্মাণ হলে সেখানে আরও উঠেন প্রায় ৩০ ঘর। বর্তমানে তিনটি শেডে ১৩০ পরিবারকে দেয়া হয়েছে ঘর। একটি ঘরে ছোট বড় দুটি কক্ষ আর তিন রিংয়ের স্লাবযুক্ত একটি টয়লেট ছাড়া তেমন কিছু পায়নি আশ্রিত লোকজন। এবারের বন্যাতেও ১০ কেজি করে চাল পেয়েছেন বলে জানান আশ্রয়নে থাকা লোকজন। খাবার না থাকায় কর্মহীন এসব লোক ঘর পেয়েও অনেকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

দহগ্রাম ১গুচ্ছগ্রাম নামের এ আশ্রয়ন থেকে কদু আমতলা এলাকার বয়স্ক ওসমান বুড়া (পাকা মাথা) তার স্ত্রীসহ ঘর ছেড়ে চলে এসেছেন। তার কষ্ট বলার মত নয়।

এদিকে,স্বামী পরিত্যক্ত বড় মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে রাজ্জাক নামে এক লোকের অবস্থাও খারাপ বলে জানা গেছে। তিস্তার চরে বসবাসরত এক সময়ের কাদের চরের বাসিন্দা বানির শেখের ছেলে কাদের শেখ, পর্বত শেখের ছেলে ময়েজ আলী,জাবের আলী,ফরিদুল,বদি,ফরহাদ,শুক্কুর আলী,শরিফা ও রাব্বানী নামে এক নারী তাদের কষ্টের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানে পৌছাতে বলেন।তারা যে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন তাতে বেঁচে থাকাই কঠিন।

দহগ্রাম চেয়ারম্যান কামাল হোসেন প্রধান ব্যস্ত থাকেন। যারফলে ওসব পরিবারের খোঁজখবর রাখার মত সময় পাননা তিনি। গুচ্ছগ্রামে লোকজন না খেয়ে আছে এমন খবর শুনে তিনি বলেন, ওরা থাকার সুযোগ পেয়েছে। অনেকের বয়স্কভাতা কার্ড আছে। খাবার দাবার না থাকলে চেয়ারম্যানের কি করার আছে? ৪ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম মাস খানেক আগে একদিন খবর নিতে গেছেন। এ প্রতিনিধি তাকে অনুরোধ করলে আজ কালের মধ্যে যাবেন বলে জানান। গুচ্ছগ্রাম লোকজন বন্যাদুর্গত হয় অথচ ত্রান চলে যায় আঙ্গোরপোতা এলাকায়। সামান্য ত্রানটুকুও ঠিকমত সুষম বন্টন হয়না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসডি দোহা/এএস