যমুনা নদীর পানি বাড়ছে, সেই সাথে বাড়ছে ভাঙ্গনের তীব্রতা। প্রবল স্রোতের ভাঙ্গনের তীব্রতা এতটা বেড়ে গেছে যে, গত ৭ দিনে সাঘাটার দক্ষিণ উল্যা (বরমতাইড়) গ্রামের দেড় শতাধিক বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বসতভিটা হারিয়ে প্রায় ৭’শ মানুষ এখন নিরুপায়।

নদীর প্রবাহমান পানির প্রবল বেগে উক্ত গ্রামে আঘাত হানছে। ¯্রােতের বেগ এত বেশী যে, নদীর ভাঙ্গন কোন মতেই কমছে না। ভাঙ্গনের মুখে লোকজন তাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে অন্যত্র সরে নিচ্ছে। চৈত্র মাসের শুরুতে নদীর পানি বাড়তে থাকে এটা চিরাচরিত নিয়ম।

যাকে চৈত্র মাসের ঢল বলে। বৈশাখ মাস অতিবাহিত হতে চললেও নদীর পানি তেমন বাড়েনি। অবিশ্বাস্য হলেও সামান্য পানি বাড়ায় এভাবে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে যাবে তা কেহই কল্পনা করতে পারেনি।

ভাঙ্গন কবলিত গ্রামের বসতভিটা হারারা জানান, অসময়ে নদীর এরুপ ভাঙ্গন এর আগে কখনো দেখিনি। একই গ্রামের হতদরিদ্র আমজাদ, সামাদ ও দারাজ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমাদের সবকিছু নদীতে চলে গেছে। এখন কোথায় ঘর তুলে মাথা গোজার ঠাঁই করে নিব তা অনিশ্চিত।

বরমতাইড় গ্রামের লোকজন নদীর ভাঙ্গনের মুখে আম, কাঁঠাল গাছ সহ বিভিন্ন গাছপালা কেটে অন্যস্থানে সড়িয়ে নিচ্ছে। অনেক গাছপালা নদী ভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড মাধ্যমে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। কিন্তু শ্রমিক অভাবে তা বিঘিœত হচ্ছে। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মধ্যে বিনামূল্যে রিং স্লাব বিতরণ করছে ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল জলিল।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভূইয়া, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

এমআর