সোনালী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার ‘অদ্ভুত’ ঘটনার সমাধান হয়েছে। সংশোধিত ফলাফলে রাজধানীর কাকলী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে এবার ৩৩৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

আজ শনিবার বিকেলে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই ভুল হয়েছিল বলে দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

২২ আগস্ট শুক্রবার সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার, অফিসার এবং অফিসার (ক্যাশ) পদের প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২৬ আগস্ট মঙ্গলবার এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে সিনিয়র অফিসার পদে ৩২ হাজার ৬৮৮ জন, অফিসার পদে ২৯ হাজার ১৮৪ জন এবং অফিসার ক্যাশ পদে ১৪ হাজার ৭৫৫ জন উত্তীর্ণ হন।

কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, সিনিয়র অফিসার পদে কাকলী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যে এক হাজার জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মাত্র একজন পাস করেছেন। অর্থাত এই কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া ২৫২৬৫৪ থেকে ২৫৩৬৫৬ রোল নম্বরের মধ্যে শুধু ২৫৩১০৪ রোল নম্বরধারী পাস করেছেন।

এই ফলাফলের পর অনুত্তীর্ণ অর্ধশত প্রার্থী প্রথম আলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা দাবি করেন, ফলাফলে কোথাও ভুল হয়েছে। কোনভাবেই তাঁরা ফেল করতে পারেন না। এ নিয়ে ২৭ আগস্ট অনলাইনে ‘এক কেন্দ্রে একজন ছাড়া সবাই ফেল’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরদিন ২৮ আগস্ট পত্রিকায়ও ‘কাকলী হাইস্কুলের সবাই ফেল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সোনালী ব্যাংক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তখন বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ বিকেলে শনিবার কাকলী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৩৩৭ জন উত্তীর্ণ হন।

সোনালী ব্যাংকের এই নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ। এই অনুষদের ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, ‘কারও ফলাফল যাচাই করা হয়নি। তাঁরা সবাই ৪৫ এর ওপরে পেয়েছিলেন। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে এই রোল নম্বরগুলো বাদ পড়েছিল। সেটি সংশোধন করা হয়েছে।’

এদিকে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ প্রার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ২৫৩৬২১ রোল নম্বরধারী ইলিয়াস হোসেন ও ২৫৩৫৪৫ রোল নম্বরধারী রতন অধিকারী জানান, প্রথম আলো তাঁদের পাশে ছিল বলেই এই ভুল সংশোধন হয়েছে।

এদিকে আরও শতাধিক প্রার্থী দাবি করেছেন, তাঁদের ফলাফলেও ভুল হয়েছে। তাঁরাও ফলাফল সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। ২০৪২৭৮ রোল নম্বরধারী জামালউদ্দিন, ২০৬১১১ রোল নম্বরধারী গোলাম কবির, ২৪৮২৮৩ রোল নম্বরধারী মুশফিকা তামান্না, ২৬১৮০২ রোল নম্বরধারী ফারহানা ফিরোজ, ২৯০৩১৫ রোল নম্বরধারী মোস্তাফিজুর রহমান, ২৫২৬৪৮ রোল নম্বরধারী মাসুম বিল্লাহ, ২৫১৭৩৯ রোল নম্বরধারী নুর ইসলাম, ২১২৩৭৮ রোল নম্বরধারী মোমেন মিয়া, ২১২৩৭৮ রোল নম্বরধারী সবুজ আলীসহ আরও অনেকেই দাবি করেছেন, এই পরীক্ষায় পাসের নম্বর ছিল ৪৫। কিন্তু তাঁরা সবাই ৬৫ থেকে ৮০ পাবেন। কিন্তু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। তাঁরা সোনালী ব্যাংকে গিয়ে লিখিতভাবে ফলাফল সংশোধনের আবেদন জমা দিয়েছেন।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেছেন, ‘সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের কয়েকটি আবেদন পাঠিয়েছিল। আমরা যাচাই করে দেখেছি কেউ রোল নম্বর লেখেনি, মোবাইল ফোনে নকলের ঘটনায় কয়েকজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার কয়েকজন পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করায় কেন্দ্রের শিক্ষকেরা গোপনে তাঁদের রোল নম্বর নিয়েছেন। কাজেই বলা যায়, এখন যে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে তাতে আর কোনো ভুল নেই। এটি শতভাগ সঠিক।’

ঢাকা, ৩০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ