মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রামের নিজ বাড়িতে ঈদের দিন রাতে খুন হওয়া বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ফাতির আলীর স্ত্রী মায়ারুন নেছা (৭৩) পুত্রবধূর অবৈধ সম্পর্কের বলি হয়েছেন বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে পুত্রবধূ ফাহিমা।

গত বৃহস্পতিবার বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাসান জামানের আদালতে পুত্রবধূ ফাহিমা শাশুড়িকে হত্যার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে বিয়ানীবাজার উপজেলার দাসউরা গ্রামের আব্দুস শহিদের মেয়ে ফাহিমার সাথে বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রামের বাসিন্দা ব্রিটিশ নাগরিক ফাতির আলীর ছেলে মকসুদুল আলম সিপনের বিয়ে হয়। ফাহিমা ছিল সিপনের চতুর্থ স্ত্রী।

এর আগের অন্য তিনজন স্ত্রীর সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বাড়িতে সিপনের প্রথম পরে দুই ছেলে ও চতুর্থ স্ত্রী ফাহিমা থাকতেন। বিয়ের কয়েক দিন পর স্বামীর এক বন্ধুর সাথে ফাহিমার পরিচয় হয়। স্বামীর ওই বন্ধু তাদের বাড়িতে প্রায়ই আসা-যাওয়া করত। বিয়ের কয়েক মাস পর সিপন লন্ডনে চলে গেলে ফাহিমার সাথে মোবাইলে স্বামীর সেই বন্ধুর সম্পর্ক গড়ে উঠে।

এ দিকে গত ২৭ মার্চ সিপনের মা মায়ারুন নেছা লন্ডন থেকে দেশে আসেন। ঘটনার রাতে ওই ব্যক্তি ফাহিমাকে ফোন করে তার বাড়িতে আসেন। বাড়িতে অপরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতির বিষয়টি টের পান মায়ারুন নেছা। শাশুড়ি অপরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতির বিষয়টি টের পাওয়ায় এবং অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি আড়াল করতে জনৈক ওই ব্যক্তি মায়ারুন নেছার শোবার ঘরে প্রবেশ করে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অমিতাভ দাস তালুকদার জানান, গৃহবধূ ফাহিমা স্বামীর অবর্তমানে জনৈক ব্যক্তির সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার রাতে ওই ব্যক্তি ফাহিমাকে ফোন করে তার বাড়িতে আসে। শাশুড়ি বিষয়টি টের পাওয়ায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্ত ও আদালতে দেয়া জবানবন্দীতে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে শাশুড়িকে হত্যার ঘটনাটি ঘটে। গৃহবধূ ফাহিমা শাশুড়ি হত্যার ঘটনায় জড়িত ওই ব্যক্তির নাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে উল্লেখ করেছেন।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ সহিদুর রহমান জানান, গৃহবধূ ফাহিমা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। এ ঘটনায় গৃহবধূকে আসামি করে দু’জনের নামে মামলা হয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়ার পর আদালত হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে জেলহাজতে ফাহিমাকে পাঠিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ঈদের দিন রাতে পুত্রবধূ বিভিন্ন স্থানে একেক রকম তথ্য জানিয়ে ফোন করেন। কোনো জায়গায় তার শাশুড়ি স্ট্রোক করেছেন, কোনো জায়গায় ডাকাতদের হামলায় তিনি মারা গেছেন আবার কোথাও শাশুড়ির শরীর খারাপ জানিয়ে ফোন করেন।


এসএ