বাংলার আবহাওয়ার চিরাচরিত রূপ পাল্টে এবার মধ্য অগ্রহায়ণেই তীব্র শীত পড়েছে রংপুর ও এর আশপাশের এলাকায়। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে উত্তরের জনপদ। কনকনে ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীতের তীব্রতার কারণে ঠাণ্ডাজনিত রোগে এরইমধ্যে রংপুরে ১১ শিশুর মৃত্যু খরব পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, কোল্ড ডায়রিয়া নিউমোনিয়াসহ শীত জনিত নানান রোগ গত এক সপ্তাহে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই এগার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে প্রচণ্ড ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও হেড লাইট জ্বালিয়ে যান চলাচল করতে হচ্ছে। পাশাপাশি শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীত বস্ত্রের দামও।
এদিকে তীব্র শীতে রোগাক্রান্ত শিশুরা হাসপাতালে বেডে স্থান না পেয়ে বারান্দাসহ করিডরে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। হাসপাতালের আসন সংখ্যার বাইরেও ভর্তি আছে শতাধিক শিশু।
বিশেষ করে কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের দূর্ভোগের শেষ নেই। ওয়ার্ডে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে তাদের থাকতে দেয়া হচ্ছে না। এ জন্য ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দা আর করিডরে রাখা হচ্ছে শিশুদের। এতে করে আক্রান্ত শিশুরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রংপুর হাসপাতালে মারা যাওয়া এগার শিশু কোল্ড ডায়রিয়া আর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া কথা পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের রেজিষ্টার ডা. শামসুজ্জামান প্রধান দাবি করেছেন, ওই সব রোগে কোন শিশু মারা যায়নি। তারা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
তিনি বলেন, কোল্ড ডায়রিয়া নয়, রোটা ভাইরাল ডায়রিয়া। আর এ রোগ সাধারণত ভরা শীত মৌসুমে দেখা দিলেও এবার এখনই এ রোগের প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছে।
তবে তিনি স্বজনদের আতংকিত না হবার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ, শীতের কবল থেকে সন্তানদের রক্ষা এবং পুষ্টিকর খাবার দিলে এ রোগ সারানো যায়।
অন্যদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি দূর্ভোগ বেড়েছে সহায় সম্বলহীন মানুষের। শীতবস্ত্রের অভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। তাছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় হেড লাইট জ্বালিয়ে যান চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে তাপমাত্রা প্রতিদনিই কমছে। বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম বেড়েছে ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক বেশি বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। বিষয়টি স্বীকার করে বিক্রেতারা বলছেন, তাদের কেনার মূল্য বেশি পড়েছে।
এআর





