অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান সিলেট প্রফেসশনাল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের পরিচালক মিস নিপার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হয়রানি, গালি গালাজ ও জীবন নাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা এমন অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, কারিগরি শিক্ষাবোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত পার্ক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধীনে বাকাশিবোর সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.আবুল কাশেমের অনুমোদন সাপেক্ষে পার্ক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ৩৮ জন ছাত্রের নিবন্ধন কার্যকর হয়।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সারাদেশে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের ১ম, ২য়, ৪র্থ, ৬ষ্ঠ ও ৮ম পর্বের পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষার আগের দিন মিস নিপা পার্ক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে হাজির হয়ে বলে, কোনো ছাত্র সংশিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসবে না। শেষ পর্যন্ত বোর্ড নীতিমালার আলোকে বোঝানোর পর ৪২ জন ছাত্র ছাত্রী পরীক্ষা দিতে আসে। প্রথম দিন পরীক্ষার পর সকল ছাত্র ছাত্রী নিয়ে মিস নিপা ঢাকা ত্যাগ করে। জানা যায়, হাতে প্রবেশপত্র পেয়েছে প্রশ্ন ও খাতা যে কোনো জায়গা থেকে ম্যানেস করে পরীক্ষা গ্রহণ করবে। সে অর্থে ছাত্র ছাত্রীদের উপর চাপ প্রয়োগ করে পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে রাত ৩টায় ঢাকা থেকে পালিয়ে যায়।

পার্ক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো: আবুল কালাম আজাদ জানান, ইতোমধ্যে কিছু ছাত্র তাদের শিক্ষা জীবনের গুরুত্বের কথা ভেবে পিছু হটে চলে আসে আমার প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য। জানতে পেরে মিস নিপা কিছু ছাত্রদের ফোন থেকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে এবং জীবন নাশের হুমকি দেয় এবং হয়রানিমূলক মামলা দিবে বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া গত বছরের শেষ দিন রাতে ফোন (০১৮১৯৯৯১৯০৫) করে আমার সন্তান পরিজন গুমের হুমকি দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পার্ক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে নিবন্ধিত ২ ব্যাচে ৭০ জন ছাত্রছাত্রী সিলেটে মিস নিপার অপকৌশলের শিকার হয়ে রাতের আধারে তার ছাত্রাবাসে চুরি করে পরীক্ষা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিশ্চুক এক ছাত্র এবং অবিভাবক। জানা গেছে, প্রথম পর্বের পরীক্ষার সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা। সিলেট সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কয়েক ছাত্র শিক্ষকের সহযোগীতায় প্রশ্ন ও খাতা এনে সকাল ০৭ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত প্রত্যেক ছাত্রের কাছে বই দিয়েই পরীক্ষা দিতে বলা হয়। যারা সরাসরি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে পার্ক পলিটেকনিকে পালিয়ে এসেছে। তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য অবগত হওয়া গেছে। প্রথম পর্বের সিভিল টেকনোলোজির এক ছাত্রের অবিভাবক বিষয়টি ফোন করে আমাকে বলেন সন্ধ্যা ০৭ থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত আমার ছেলে ছাত্রবাসে কি পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষাতো দিনে হয় রাতে কেন হচ্ছে। তখন ব্যাপারটি দিবালোকের মত স্পষ্ট হওয়া সম্ভব হয়েছে। তথ্যটি আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্থানীয় আরো দু'জন অবিভাবক ও একজন ছাত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে ঠিকই তারা রাতের আধারে পরীক্ষা দিচ্ছে।

আবুল কালাম আজাদ জানান, সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলোজির ইন্সট্রাক্টর জনাব তোজাম্মেল হোসেন (ফোন ০১৭১৭৪৫২৭৪) সরাসরি তার স্ত্রীর ছোট ভাই নাইমের (সিলেট প্রফেসনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সিভিল বিভাগে ১ম পর্বের ছাত্র) মাধ্যমে প্রশ্ন সরবারাহ করে থাকেন। আর খাতা ফটোকপি করে পরীক্ষা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

তিনি বলেন, এটা একটা চরম অনৈতিক চক্র। এভাবে শিক্ষার ভাবমূর্তি একদম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরীক্ষা নীতিমালার আলোকে দন্ডনীয় অপরাধ। অন্যদিক পার্ক পলিটেকনিকের সুনাম বিনষ্টের ষড়যন্ত্র মাত্র।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ভর্তি কৃত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন লোভ লালসা দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মিস নিপা। ছাত্র ভর্তির সময় তাদের পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেয়া ও পরীক্ষার হলে বই নিয়ে লেখার সুযোগসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সেমিস্টার ফি ছাড়াও মোটা অংকের টাকা ছাত্রদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে।

কয়েকজন ছাত্র জানান, ১ম পর্বের সেমিস্টার ফি সম্পূর্ণ গ্রহণের পর আগাম ২য় ও ৩য় পর্বের সেমিস্টার ফিও হাতিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, গত ১১ নভেম্বর ২০১৪ মিস নিপার বিভিন্ন ছবি ও কার্যক্রম নিয়ে জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপানো হয়েছে। এ ছাড়া ৮/৯ টি টিভি চ্যানেলে তার ব্যাপারে সচিত্র প্রতিবেদন দেখানো হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ সিলেট প্রফেসনাল টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নামে স্বল্প মেয়াদী কোর্স পরিচালনা ও চাকরি দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া অনুমোদন ছাড়াই সিলেটের স্থানীয় পত্রিকায় ভর্তির বিজ্ঞাপনে কারিগরি বোর্ড অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রচার করে ছাত্র ছাত্রী ভর্তি করে যাচ্ছে দীর্ঘদিন ছাত্র ছাত্রীদের প্রতারণার জালে ফেলে ভর্তির জন্য বিভিন্ন রকম অপকৌশল অবলম্বন করে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কারিগরি শিক্ষাবোড কর্তৃক পলিটেকনিকের একটি ভুয়া কোড নম্বর ব্যবহার করে।

এক পর্যায়ে তাদের বোর্ড রেজি: জন্য ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দারস্থ হয়। রেজিঃ হওয়ার পর যখনই টাকা পয়সার কথা বলা হয় তখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে অপ্রত্যাশিত গন্ডগোল বাগিয়ে অন্যত্র অন্যত্র চলে যায়। তখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে তাদের বিপদে ফেলে টাকা পরিশোধ না করে চলে যায় অন্যত্র। এভাবে একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত চেক ডিজ অর্নার হওয়ার প্রতিবেদনও ছাপা হয়েছে। বর্তমান পার্ক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এর সাথেও একই কাজে মত্ত হয়ে ছাত্র ছাত্রীদের ভুল বুঝিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে সরাসরি বাসায় নিয়ে চলে যায়। যার ফলে অনেক ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তায় দিকে যেতে বসেছে।

কেএইচ