বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) ও মায়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) পতাকা বৈঠকে বিজিপির করা দুইটি অভিয়োগ প্রত্যখ্যান করেছে বিজিবি।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিজিবি সদর দপ্তরে নায়েক রাজ্জাককে কোন প্রকার শর্ত ছাড়াই ফিরিয়ে আনার ব্যাপরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, মায়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সাথে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টার একটি বঠৈক হয়। যেখানে বিজিপি অভিযোগ করেছেন যে বিজিবি নায়েক রাজ্জাক এবং তার দল ওই দিন ইউনিফর্ম ছাড়াই দ্বায়িত্বরত ছিলো। আমরা এই অভিযোগ প্রত্যখ্যান করে বলেছি যে, আমাদের কোন সদস্যকেই ইউনিফর্ম ছাড়া ডিউটি করতে দেওয়া হয়না।

মহাপরিচালক বিজিপির দ্বায়ের করা অপর অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, তারা অভিযোগ করে বলছে যে আমাদের বিজিবি সদস্যরা জিরো লাইন অতিক্রম করে ডিউটি করছিলো। আমরা সেটাও প্রত্যখ্যান করে বলেছি আমাদের সদস্যরা নির্দিষ্টি সীমানার মধ্যে থেকে সন্দেহ ভাজন নৌকা তল্লাসি করছিলো।

তখন তোমাদের কিছু সদস্য সিভিল পোশাকে এসে আমাদের সদস্যদের উপর অতর্কিত আক্রমন করে। এবং পরবর্তিতে আমাদের সদস্যদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করার এক পর্যায়ে নায়েক রাজ্জাককে ধরে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, তাদরে পক্ষ থেকে মূলত এই দুটি বিষয়ে অভিযোগ করা হয়। কিন্ত আমারা তাদের এই দুটি অভিযোগ সরাসরি প্রত্যখ্যান করি।

এছাড়াও সাড়ে তিন ঘন্টার ওই বঠৈকে তারা একাধিক এজেন্ডা উতথাপন করে। তার মধ্যে বর্ডার ম্যানেজমেন্ট, তথ্য আদান প্রদান এবং নদীতে মাছ ধরার বিষয়গুলো ছিলো। এছাড়া মায়ানমারের যে মহিলা আমাদের দেশে এসে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ড আইটেম নিয়ে যেত সে ইস্যুটিও এখানে উল্লেখ ছিলো।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দুদেশের মধ্যে লিখিত এ বঠৈকটি অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হিলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া এলাকা সংলগ্ন নাফ নদীতে মায়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ট্রলার নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশের জলসীমায় এসে একদল অস্ত্রধারী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এতে বিপ্লব নামে এক বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়। এবং বিজিবির অপর এক সদস্য নায়েক আবদুর রাজ্জাককে ধরে নিয়ে যায় বিজিপি।

এমআর