খুলনায় শিশু রাকিব (১২) হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মঙ্গলবার বেলা ১২টায় খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম এমএলবি মেছবাহ উদ্দিনের আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।

এজাহারভূক্ত তিনজনকেই চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মোট ৪০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর আগে চার্জশিট দাখিল এবং এ মামলার বিষয়ে অবহিত করতে কেএমপি সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কাজী মোস্তাক আহমেদ জানান, তিন আসামি মোটরসাইকেল গ্যারেজ মালিক ওমর শরীফ, তার কথিত চাচা মিন্টু খান ও শরীফের মা বিউটি বেগমকে চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ৪০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে ৪ জনই আদালতে ঘটনার বর্ননা দিয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, আসামি ওমর শরীফ, মিন্টু খান ও বিউটি বেগম ঘটনার ব্যাপারে নিজেদের সম্পৃক্ত করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ফলে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে মামলার বিষয়ে অবহিত করতে সকাল ১১টায় কেএমপি সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি।

তিনি বলেন, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এমনকি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে অন্য মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া, রাজনৈতিক ডিউটি এমনকি তার ছুটিও বন্ধ রাখা হয়েছিল।

তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে মামলাটি মনিটরিং করা হয়। যে কারণে ঘটনার মাত্র ২১ দিনের মাথায় মামলার চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়েছে।

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সাক্ষীদের নাম পরিচয় প্রকাশ না করার জন্য তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের অনুরোধ করেন।

ব্রিফিংকালে নিহত শিশু রাকিবের বাবা নূরুল আলম, মা লাকি বেগম এবং বোন রিমি আক্তার পারভীন উপস্থিত ছিলেন। কেএমপি'র পক্ষ থেকে তাদের হাতে ২৫ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।

রাকিবের বাবা নূরুল আলম ও মা লাকি বেগম জানান, দ্রুত মামলার চার্জশিট দাখিলে তারা সন্তুষ্ট।

এছাড়া এ ঘটনার পর থেকে যারা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। একই সঙ্গে তারা তিন আসামির ফাঁসি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট বিকালে নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডে শরীফ মোটর্সের ভেতরে মোটরসাইকের গ্যারেজ মালিক শরীফ ও তার কথিত চাচা মিন্টু মোটরসাইকেলের হাওয়া দেওয়ার কমপ্রেসার মেশিনের পাইপ রাকিবের পায়ুপথে ঢুকিয়ে পেটে হাওয়া দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শরীফ মোটর্সের মালিক শরীফ, তার মা বিউটি বেগম ও সহযোগী কথিত চাচা মিন্টু মিয়াকে ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

আসামিরা সবাই ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তারা খুলনা কারাগারে রয়েছেন।

এমকে