ইন্টারনেট ব্যান্ড উইথের বিনিময়ে ভারত থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেনার বিষয়টি সার্বিকভাবে পর্যালোচনা করা দরকার। তবে, এই বিদ্যুত আমরা বন্ধুত্বসুলভভাবে পাচ্ছি কিনা সেটাও বিবেচনা করে দেখতে হবে। যেখানে অন্য ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমরা ৫ টাকা দরে পেয়েছি সেখানে এই ১০০ মেগাওয়াটের দাম সাড়ে ৫ টাকা করে ধরা হয়েছে। এখন উচিত হবে এই ১০০ মেগাওয়াটের দামও ৫টাকা দরে আদায় করার জোর প্রচেষ্টা চালানো।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ জমির এসব কথা বলেছেন। বুধবার রাতে বেসরকারী টেলিভিশন এটিএননিউজের লাইভ টকশো “নিউজ আওয়ার এক্সটায়” অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন।
তবে, দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কানিকটিভিটি বা সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই সাবেক রাষ্ট্রদূত।
বাংলাদেশ ভারতের মধ্যকার আঞ্চলিক কানিকটিভিটির অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে জমির আরও বলেন, ভারতের গোহাটিতে বাংলাদেশ একটি দূতাবাস খুলেছে, অপরদিক ভারত বাংলাদেশের সিলেটে তাদের দূতাবাস চালু করেছে।
জমির বলেন, মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের কানিকটিভিটির যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এটা বাংলাদেশর জল, স্থল এবং পরিবেশ-এই তিন ক্ষেত্রেই উপকারে আসবে। এসব খাতে দুই দেশ যদি একসাথে কাজ করে তাহলে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবেন এবং তারা কাজের সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা একই সূত্রে গাঁথা। ভারত নিরাপদ থাকলে বাংলাদেশও নিরাপদ থাকবে, একইভাবে বাংলাদেশ নিরাপদ থাকলে ভারত নিরাপদ থাকবে।
তিনি বলেন, ভারতে জঙ্গি তৎপরতা বা সন্ত্রাসী তৎপরতা কোন কারণে বাড়লে বাংলাদেশও তাতে আক্রান্ত হবে। ১৯৮৩ সালে ভারতের বোম্বে শহরে একসাথে ১২টি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছিল। পাকিস্তানের জঙ্গি লস্কর ই তৈয়বা ওই হামলায় জড়িত ছিল। ওই লস্কর ই তৈয়বাসহ অন্য জঙ্গীরা এরইমধ্যে বাংলাদেশে চলে এসেছে।
শিকদার আরও বলেন, ২০০১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতের পার্লামেন্টে যে আক্রমন হয়েছিল সেটাও করেছিল লস্কর ই তৈয়বার সদস্যরা। আজিজ মোহাম্মদ ওই সংগঠনের নেতা যাকে ধরার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। অথচ পাকিস্তানের করাচিতে সে জনসম্মুখে সভা-সমাবেশ করে বেড়াচ্ছে এবং পাকিস্তান সরকার বলছে তাকে তারা খুঁজে পাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে ভারত অস্বস্তিতে ছিল। আর ওই সময়ই ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান ধরা পড়েছিল।
উল্লেখ্য, বুধবার (২৩ মার্চ ২০১৬) ভারতের ত্রিপুরা থেকে আন্তঃদেশীয় গ্রিডলাইন দিয়ে বাংলাদেশে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সাথে বাংলাদেশ থেকে ১০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ ভারতে রপ্তানির বিষয়টিও হাসিনা-মোদীর টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে শুরু হয়।
ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে এসবকার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
ত্রিপুরা-কুমিল্লা আন্তঃদেশীয় এই গ্রিডের উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই ভারত-বাংলাদেশ ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট লাইনটিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হয়।
টেলি কনফারেন্সে নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাসবাদ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদের জায়গাটিকে একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চায়।
তিনি আরও বলেন ভারত-বাংলাদেশের যে সম্পর্ক তার মধ্যে অনেক ঐতিহাসিক ভুলের ব্যাপার ছিল। আর ঐতিহাসিক ভূল নয়, দুই দেশের মধ্যে এখন বাণিজ্যিক এবং সকল ধরনের কানিকটিভিটি বা ইতিবাচক সম্পর্ক অক্ষুন্ন থাকবে।
মোদী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত যেমন বাংলাদেশের পাশে ছিল তেমনি উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে একইভাবে ভারত বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে।
কেবি





