সংঘর্ষ, ভাংচুর, বর্জন, কারচুপিসহ বিচ্ছিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া ২৩৪ টি পৌরসভার ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে, ব্যাপক অনিয়ম, কেন্দ্র দখল আর হামলা-বোমাবাজির পর নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি। বাকি ২৩৩টি পৌরসভার মধ্যে সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনী ফলাফল তুলে ধরা হলো:
পৌরসভা নির্বাচনের এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল:.........২২৩ টি
আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকে বিজয়ী…...১৮০ জন
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে বিজয়ী....১৬
বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী…..১৭ জন
জাতীয় পার্টি……..০১
স্বতন্ত্র...........০৭
অন্যান্য...........০৩
স্থগিত............০১
বিস্তারিত ফলাফল:
ঢাকা: পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের জয়জয়কার হয়েছে। ২৩৪টি পৌরসভায় বুধবার ভোট গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ২২৫টি পৌরসভার ফল জানা যায়। এতে নৌকা প্রতীক নিয়ে এতে মেয়র পদে ১৮০ জন আওয়ামী লীগ প্রার্থী, ১৬ জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, ১৭ জন বিএনপি প্রার্থী, ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী, বিএনপি’র বিদ্রোহী ২ জন, জাতীয় পার্টির ১ জন, জামায়াতের ২ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্তভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন এই নির্বাচনে কোথাও কোথাও কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়। তবে নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলার ৪২ টি পৌরসভার মধ্যে বুধবার ভোট হয়েছে ৪০টিতে। এর মধ্যে ৪০ টির ফলই জানা গেছে। তাতে আ’লীগের প্রার্থীরা ৩৩টিতে, আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা ৩টি, বিএনপি প্রার্থী ১টি এবং ৩টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মেয়র হিসেবে জয়ী হয়েছেন। নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে নির্বাচন ৭ জানুয়ারি নির্ধারিত রয়েছে।
চট্টগ্রামের ১০ জেলার ৩৫টি পৌরসভার মধ্যে সবগুলোর ফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩৩ টিতেই জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। ১টিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী, ১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় ৪৯টি পৌরসভায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টির ফল জানা গেছে। এতে আ’লীগের প্রার্থীরা ৩২টি, আলীগের বিদ্রোহীরা ৩টি, বিএনপি ৫টি, বিএনপি’র বিদ্রোহী ২টি এবং জামায়াতের ১ প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
খুলনা বিভাগের ৯ জেলায় ২৯ পৌরসভার মধ্যে সবগুলোর ফল জানা গেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ২২টিতে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা ৩টি, বিএনপি প্রার্থীরা ২টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী একটিতে জয়ী হয়েছেন।
সিলেট বিভাগে চার জেলায় মোট ১৬টি পৌরসভার সবগুলোর ফল জানা গেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ১১টি, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ২টি ও বিএনপি প্রার্থী ৩টি পৌরসভায় নির্বাচিত হয়েছেন।
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ১৭টি পৌরসভার ১৫টির ফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৪টিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বাকি দুটি পৌরসভায় একটি করে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করায় ফল প্রকাশ সম্ভব হয়নি।
ময়মনসিংহের চার জেলায় ৩১টি পৌরসভার সবগুলোর ফল জানা গেছে। এর মধ্যে আ’লীগ প্রার্থী ২৫টি, আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীরা ৩টি, বিএনপি প্রার্থীরা ২টিতে এবং ১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
রংপুর বিভাগে ৮ জেলার ২০ পৌরসভার মধ্যে ১৭টির ফল জানা গেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ১০টি, দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ১টি, বিএনপি প্রার্থীরা ৩টি, জাপা ১টি, জামায়াত ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ১টিতে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি তিনটি পৌরসভার দুইটির একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। অপর পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শেষে গণনার সময় হামলার জেরে গণনার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ নির্বাচনে মেয়র পদে ৯৪৩ জনসহ মোট ১২ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৫টি কেন্দ্রে ৬১ হাজার ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োজিত ছিলেন। এ নির্বাচনে ৩ হাজার ৫৫৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব ভোটকেন্দ্রে বুথের সংখ্যা ২১ হাজার ৫৭১টি।
বুধবার সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভায় গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। সাতকানিয়া সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্র থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম নূরুল আমিন (২৬)।
যেসব কেন্দ্রে ভোট স্থগিত : অনিয়ম, সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ভোটকেন্দ্রে গুলি, ব্যালট পেপারে জোর করে সিল দেওয়ার অভিযোগে আটটি পৌরসভার ১৪টি কেন্দ্রের ভোট নেওয়া স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা এসব কেন্দ্রে ভোট নেওয়া স্থগিত করেন।
এর মধ্যে কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভায় একটি ও হোমনা পৌরসভায় দুটি, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও বাঁশখালী পৌরসভায় তিনটি, মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভায় দুটি, জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে একটি, বরগুনায় একটি, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভায় চারটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হয়েছে।
এদিকে পৌর নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে বিএনপি এই নির্বাচনকে কারচুপির নির্বাচন বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দাবি, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে।
কেবি/এসএইচ





