বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় যুবলীগ ক্যাডারদের সশস্ত্র হামলার পর অবশেষে পুলিশ পাহারায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এক স্কুলছাত্রী।

ওই পরীক্ষার্থীর বাড়ি থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে সার্বক্ষণিক পুলিশী টহলের ব্যবস্থা করেছে পুলিশ।

পাশাপাশি তার বাড়ির আশেপাশে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।

জানাগেছে, বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল মধ্যপাড়া এলাকার যুবলীগ কর্মী আতিকুর রহমান ওরফে আকুল এবং রাব্বি মিয়া একই এলাকার ট্রাক চালক জিন্নাহ মিয়ার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে এবং তার ভাগ্নি পাশের বাড়ির মুদি দোকানি বাবলু মিয়ার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের প্রতি কুদৃষ্টি পড়ে। জিন্নাহর মেয়েকে জোর করে বিয়ে করতে চায় আকুল, আর বাবলুর মেয়েকে বিয়ে করতে চায় রাব্বি।

বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা গত ৯ জানুয়ারি দলবল নিয়ে অস্ত্রের মুখে ওই দুই কিশোরীকে তুলে আনতে যায়। পরদিন আকুল ও রাব্বির নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে হামলা করে।

হামলায় বাড়ি ঘর ভাংচুর, খড়ের গাদায় আগুন জ্বালানো ছাড়াও গোয়াল থেকে গরু বের করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি হুমকী দেয় যে, বিয়ে না দিলে সপরিবারে পুড়িয়ে মারবে।

তাদের হাত থেকে বাঁচতে এক পরিবার তিন সপ্তাহ আগে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করে। অন্য পরিবার সন্ত্রাসীদের ভয়ে স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের পাঠিয়েছে বহু দূরে নিকটাত্মীয়র বাড়িতে।

রোববার সাংবাদিকদের মাধ্যমে বগুড়ার পুলিশ সুপার ঘটনাটি জানতে পেরে আত্মগোপনে থাকা এসএসসি পরিক্ষার্থী ছাড়াও অন্যদেরকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। তিনি রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ওই রাতেই ট্রাক চালক জিন্নাহর ভাই আব্দুস সালাম বাদি হয়ে যুবলীগ কর্মী আকুল ও রাব্বিসহ ৮জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পরই পুলিশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে রনি, সনি, জয় এবং আকুলের বড় বোন সোহাগীকে গ্রেফতার করে।

এদিকে, জিন্নাহর মেয়ে সোমবার থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। কড়া পুলিশী নিরাপত্তায় সে গোকুল তছলিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। তার পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতের পুরো নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশ। এছাড়াও জিন্নাহর বাড়ির আশে পাশে পুলিশ টহল দিচ্ছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার জানান, আত্মগোপনে থাকা ওই মেয়ে সোমবার পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে।

তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ঘটনায় ৮ জনের নামে হামলা ভাংচুর ছাড়াও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

এসএইচ