মাদারীপুরে চাঞ্চল্যকর দুই স্কুলছাত্রীকে হত্যার ঘটনার দোষিদের বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি পুলিশের বাধার মুখে পণ্ড হয়ে যায়।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ.এইচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। কিন্তু পুলিশ শিক্ষার্থীদের ছত্র ভঙ্গ করে ব্যানার টেনে হিচড়ে নিয়ে যায়। পুলিশের এই ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
মস্তফাপুর বহমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর দুই শিক্ষার্থীকে গত বৃহস্পতিবার নির্যাতনের পর হত্যা করে বখাটেরা। এর প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাদারীপুর শহরের এ.এইচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ গাউসউর রহমানের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করে।
এ সময় সদর থানার এসআই শ্যামলেন্দু ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশ অতর্কিতভাবে মানববন্ধনে বাধা দিয়ে ব্যানার টেনে ছিচড়ে নিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থী, নিহতের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা ছত্র ভঙ্গ হয়ে যায়। পুলিশ কলেজের অধ্যক্ষ গাউসউর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে টেনে-হিচড়ে গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করে। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে অধ্যক্ষকে রেখে যেতে বাধ্য হয়।
এসআই শ্যামলেন্দু ঘোষ দাবি করেন, আয়োজকরা পুলিশ প্রশাসন থেকে অনুমতি নেয়নি বলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই কর্মসূচি পন্ড করে দেয়া হয়েছে।
মাদরীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পারভেজ রায়হান জানান, কেউ শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করলে পুলিশ বাধা দিতে পারে না। তবে অনেক ক্ষেত্রে মৌখিকভাবে পুলিশের অনুমতি নিতে হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, মানববন্ধন করার জন্য পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি তাই নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কায় মানববন্ধন করতে দেওয়া হয়নি। তবে অনুমতি নিয়ে মানববন্ধন করলে পুলিশ আয়োজকদের সহযোগিতা করবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার মস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার ও তার সহপাঠি হ্যাপি আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করে । এই ঘটনায় সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে তিন আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জেআই





