ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কোন আসামীকে বিশেষ ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার যে এখতিয়ার আছে সেই আইন বাতিল করার কোন সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী তার আরব আমিরাত সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের কেউ কেউ পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ভিক্ষার সুযোগ নিতে পারেন-এমন ইঙ্গিত দিয়ে রাষ্ট্রপতির এই বিশেষ ক্ষমতা বাতিলে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে কীনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন রাষ্ট্রপতির হাতে এই ক্ষমতা থাকতে হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদেরকে পুরো দেশ চালাতে হয়। অনেক কিছু ভাবতে হয়। রাষ্ট্রপতির হাতে ক্ষমা করার যে এখতিয়ার রয়েছে তা রহিত করার কোন সুযোগ নেই।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, জীবন নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই। একদিন সবাইকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তো এক্সটেনশন (অতিরিক্ত) সময় পার করছি। আমাকে তো অনেক আগেই মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমাকেও অবশ্যই একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে। মৃত্যু নিয়ে আমি কখনই উদ্বিগ্ন নই। আমি মৃত্যুর পরোয়া করি না।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমাকে দিয়ে আল্লাহ যতটুকু কাজ করাবেন তার আগে আমার মৃত্যু হবে না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার জীবনের ওপর বিভিন্ন সময় যেসব হামলা হয়েছে তার উল্লেখ করেন।
আরব আমিরাত সফরের সময় একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিষয়ে আরব নেতাদের কেউ কোন প্রশ্ন করেছিল কীনা বা কোন অনুরোধ করেছিল কীনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোন অনুরোধ বা প্রশ্ন কেউ আমাকে করেননি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসে জঙ্গীরা পরিকল্পনা করেছিল বলে ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদের উত্থানের বিষয়টি নতুন নয়। বাংলাদেশে বার বারই জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চেয়েছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী আবারও বলেন, তিনি তার জীবন নিয়ে মোটেই উদ্বেগ বোধ করেন না। তিনি মনে করেন, জন্মালে একদিন মরতেই হবে। তাই এসব না ভেবে তিনি তার কাজগুলোই করতে চান।
কেবি





