ঈদুল আজহার ৫ দিনের সরকারি ছুটির পর আজ রোববার (২৬ আগস্ট) খুলেছে সরকারি সব অফিস-আদালত ও ব্যাংক-বীমা। তবে প্রশাসনের প্রাণ কেন্দ্র সচিবালয় ঘুরে দেখা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতির হার কম। মন্ত্রীরা কেউ কেউ কেউ এসেছেন সচিবালয়ে। কুশল বিনিময় করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে। একইভাবে প্রথম কর্মদিবস পার করতে গেছে অন্যদেরকেও।

প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা অফিসে এসেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক কক্ষে জড়ো হয়ে পরস্পরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সচিবালয়ের বারান্দা, সিঁড়ি, লিফট-সর্বত্রই ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় চলছে। একে অপরকে দেখা মাত্রই বুকে জড়িয়ে নিচ্ছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, ঈদের পর প্রথম অফিসই সচিবালয়ে ঈদের দিন।

বুধবার (২২ আগস্ট) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। এবার ঈদে ২১, ২২ ও ২৩ আগস্ট ছুটি ছিল। এরপর ২৪ ও ২৫ আগস্ট (শুক্র ও শনিবার) ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তাই টানা পাঁচদিন ছুটি পায় সরকারি চাকুরেরা।

এবার বেশির ভাগ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী তাদের নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করেছেন বলে জানা গেছে।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সচিবালয়ে উপস্থিত হয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পৌনে ১০টার দিকে সচিবালয়ে উপস্থিত হন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনিও নিজ দফতরে এসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সচিবালয়ে নিজ দফতরে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও কোলাকুলি করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। মিষ্টিমুখ করান উপস্থিত সবাইকে। এরপর ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করতে ভারত থেকে কয়লা আমদানিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এক লাখ টন কয়লা আমদানি করা হবে। সেই সাথে আগামী অক্টোবরের শুরুতে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সচল করার চেষ্টা চলছে বলেও এ সময় জানান নসরুল হামিদ।

এদিকে, প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে উপস্থিত হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বলে জানা গেছে।

সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে উপস্থিতি খুবই কম। অনেক কক্ষে চেয়ার-টেবিল ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। যারাও এসেছেন কাজে-কর্মে ছিল অনেকটাই ঢিলেঢালা ভাব। সচিবালয়ে দর্শনার্থীও খুব কম। একই চিত্র সরকারি ব্যাংক ও বিভিন্ন দফতরগুলোতেও।