নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও নগরীর ভোটার ও প্রার্থীরা। হত্যা মামলার আসামি, মাদক ব্যবসায়ীরা প্রার্থী রয়েছে এ নির্বাচনে। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে তাদের অবস্থান ও পদক্ষেপগুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বুধবার নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মিলনায়তনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ‘আশা ও শঙ্কা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত কোদাল প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মাসুম বিল্লাহসহ কয়েকজন প্রার্থী।
আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম, গার্মেন্ট ব্যবসায়ী মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিকসহ অনেকে।
সভায় ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বী বলেন, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মকাণ্ডে জনগণ সুষ্ঠু নিবাচনের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। প্রার্থীরা কেউ কোনো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না। এটা আওয়ামীলীগ বিএনপির নির্বাচনে পরিণত হয়েছে। যেটা হওয়ার কথা ছিল না। তাই নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা ও অনীহা তৈরি হয়েছে। এ নির্বাচন কমিশনের প্রথম দিকের নির্বাচনগুলো ছিল প্রশংসনীয় কিন্তু এর পরবর্তী সময়ের নির্বাচনগুলোর কারণে মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এখন নির্বাচন কমিশন নয় সরকারের উপর মানুষ নির্ভর করে সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন চায় কি না। কারণ সরকার যদি চায় তাহলেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাস ও গডফাদারদের থেকে আমরা এখনও বের হয়ে আসতে পারিনি। এ মানুষগুলো এখনও আছে। প্রশাসনের কর্তাদের সর্তক থাকতে হবে যাতে করে নির্বাচনের সময় এরা ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখল না করতে পারে। আর তাই নিয়ে শঙ্কা মানুষের মাঝে। সাত খুনের সঙ্গে অভিযুক্ত, হত্যা মামলার আসামি, মাদক ব্যবসায়ীরা প্রার্থী হয়েছে। এসব কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে শঙ্কা থাকবেই। এছাড়াও বৈধ ও অবৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার জন্য আহবান জানান তিনি।
বিএকএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, নারায়ণগঞ্জের অনেক ভালো কিছু থাকলে সন্ত্রাস ও খুন গুম বলে কলঙ্কিত ও খারাপভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের সফলতা নিয়ে কোনো কথা হয় না। এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। তবে নির্বাচন কমিশনকে শেষ পর্যন্ত এখনকার অবস্থানে থাকতে হবে। তাছাড়া কাউন্সিলর প্রার্থীদের ফোকাস দিতে হবে। তাদের নিয়েই শঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে প্ল্যান উপস্থাপন করার জন্য আহবান জানান তিনি।
নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, এখনও পর্যন্ত সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। মেয়র প্রার্থীরা ঠিক থাকলেও কাউন্সিলরদের মধ্যে অস্থিতিশীল হতে পারে। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হওয়ার আহবান জানান তিনি। এ নির্বাচন থেকে গণতন্ত্রের সুবাতাস জাতীয় নির্বাচনে ছড়িয়ে পড়বে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট নয়। এখনও কোনো বড় সন্ত্রসী গ্রেফতার হয়নি। বৈধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। ২৭টি ওয়ার্ডে নির্বাচন কমিশন থেকে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রার্থীদের মধ্যে বৈষম্য দূর করে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে।
বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে ইউপি নির্বাচনে ২৫০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। সেই দিক থেকে নারায়ণগঞ্জে বারুদের স্তুপের মধ্যে নির্বাচন করছি। যে কোনো সময় যে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়নি।
বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নির্বাচন কমিশন ১৭৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যার কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জে ১ হাজারের বেশি বৈধ অস্ত্র আছে সেগুলো জমা নেওয়া হচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত ভীতিকর পরিবেশ দূর হয়নি। কোনো বড় সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়নি। যার কারণেই পুলিশ, র্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি করছি।
আওয়ামীলীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, বিগত নির্বাচনের তুলনায় এবার নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুন্দর রয়েছে। এ সরকারের অধীনে আরো অনেক সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। বন্দর ও সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে।
আইভী বলেন, আমি সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিপক্ষে না তবে ইসি যদি মনে করে, তাহলে দেশের সর্বোচ্চ বাহিনী মোতায়ন করতে পারে। কারণ আমিও চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। আর ২২ তারিখে জনগণ যাকে বেছে নেবে সে-ই নির্বাচিত হবে। গণরায় আমরা সবাই মেনে নেব।
গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজক ছিল দৈনিক প্রথম আলো। সঞ্চালনা করেন সোহরাব হোসেন।
এমই





