ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের(ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনছার আলী খানের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বছরে সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের ২ কোটি  টাকা লোপাটের অভিযোগ।

আরও অভিযোগ রয়েছে,নয়াবাজার কাঁচাবাজর,কাপ্তানবাজার, চানখারপুল,নিলক্ষেত লেপতোষক মার্কেট,যাত্রবাড়ি কাঁচাবাজার এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকার পাবলিক টয়লেটের রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ডিএসসিসি।

জানা যায়, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনছার আলী খানের (যুগ্মসচিব) একটি সিন্ডিকেট  সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের টোলের টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। তার একগুয়েমির ফলে ডিএসসিসির ফান্ডে প্রতিমাসে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা অথাৎ বছরে ১৮ লাখ টাকা কম জমা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের মাসে ১৫ লাখ টাকা অর্থাৎ বছওে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ডিএসসিসির ফান্ডে জমা হচ্ছে না।

এই ধরনের আরও অনেক রাজস্ব আদায়ের বৈধ খাতগুলো ব্লক হয়ে যাচ্ছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কারনে।  অথচ টাকার অভাবে ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরর মাসিক বেতন এবং নগরীর উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ রয়েছে ডিএসসিসির সায়েদাবাদ টার্মিনালের সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে  সহযোগিতাকারী মো. খলিলুর রহমানকে নিয়োগ দেয়ার। ওই নির্দেশনার অলোকে  ২০১৪ সালের গত ২১ এপ্রিল প্রশাসক মো. আলমগীর এবং টার্মিনাল বিভাগের জিএম কর্নেল হাবিরুর রহমান,ম্যানেজার মারুফ  হাসান অফিসিয়ালভাবে খলিলুর রহমানকে দৈনিক ৯৫ হাজার টাকা জমা দেয়ার শর্তে নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। কিন্তু  অদ্যাবধি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনছার আলী খান এই বিষয়টি নিষ্পতি না করে নথি চাপা দিয়ে রেখেছেন।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সায়েদাবাদ টার্মিনালের টোল আদায়ে সহায়তাকারী নিয়োগে প্রতিবারই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মেয়াদের শেষ পর্যায়ে তার  পছন্দের একজনকে হুট করে কম টাকায় নিয়োগ দেন।

এর আগে ২০১২ সালে আবদুর রজ্জাককে দৈনিক ৮০ হাজার টাকা জমা দেয়ার শর্তে নিয়োগ দেয়। কিন্তু  তিনি দৈনিক ৫৮ হাজার টাকা জমা দেন। ২০১৩ সালে ১৬ জানুয়ারি  মো. খলিলুর রমান দৈনিক ৯০ হাজার টাকা জমা দেয়ার শর্তে সায়েদবাদ টার্মিনালের রাজস্ব আদায়ের সহযোগিতাকারী হিসেবে নিয়োগের আবেদন জানান।

কিন্তু তার আবেদন আমলে নেয়নি।  ২০১৩ সালের ২৮ মে খলিলুর রহমান পুনরায়  দৈনিক ৯৫ হাজার টাকা জমা দেয়ার শর্তে নিয়োগের আবেদন জানান। এবারও তার আবেদন আমলে না নিয়ে ২০১৩ সালের ১৪ জুন আবুল কালামকে  দৈনিক ৯০ হাজার ২০০ টাকা জমা দেয়ার শর্তে নিয়োগ দেন।  বর্তমানে তার নিয়োগের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে। আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুল আলম হত্যা মামলায় চার্জশিট ভুক্ত প্রধান আসামি এই আবুল কালাম।

শোনা যাচ্ছে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নানা ফাক ফোকড়ের মধ্য দিয়ে এই আবুল কালামকেই পুনরায় নিয়োগ দেয়ার পায়তারা করছেন।

এই টার্মিনালের লোপাট ও অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ তাহসিনুর হক ২৪ মার্চ সায়েদাবাদ টার্মিনালের তত্ত্বাবধায়ক গোলাম ছরোয়া এবং ডিএসসিসির ম্যানেজার মারুফ হাসানকে ডেকে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

ওই টার্মিনালের সহকারি টোল আদায়কারী আবদুর রাজ্জাক রানাকে খোঁড়া অজুহাতে প্রায় ৩৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মওকুফ করার নজির স্থাপন করেছেন। এর বাইরে টার্মিনালের আদায় টোলের টাকা,পানি, বিদ্যুৎ বিল, ক্যান্টিনের টাকাসহ প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ডিএসসিসির ফান্ডে জমা না হবার কারণে তত্ত্বাবধায়ক গোলাম ছরোয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তত্ত্বাবধায়ক গোলাম ছরোয়ার ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন।  আড়াই মাসের মাথায় ২ এপ্রিল  তত্ত্বাবধায়ক গোলাম ছরোয়ারকে পুনরায় ওই পদে বহাল  করলে তিনি ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সমুদয় বকেয়া টাকা ডিএসসিসির ফান্ডে জমা দেয়ার জন্য  ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গিকারনামা দাখিল করেন। ২০ এপ্রিল তাকে ও পদে পুনরায় বহাল করা হয়। কিন্তু গত এক বছরেও ছরোয়ার এবং সহযোগি টোল আদায়কারী আবদুর রাজ্জাক রানা সমুদ্য়  বকেয়া টাকা ডিএসসিসিতে জমা দেয়নি।

এদিকে শনিবার সন্ধ্যা ৭ টা ৪২ মিনিটে  ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার তার মোবাইলে নং-০১৭১১৯৪৭৮৭৪ এ ফোন করে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিটিং এ আছি। এখন  কোনো কথা বলা যাবে না। কখন কথা বলবেন জানতে চাইলে তিনি ফোন রেখে দেন। এর আগে গত বুধবার দুপুরে তার অফিসে গিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা, একে, ১৪ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর