খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমাকে অপহরণ চেষ্টায় ব্যার্থ হয়ে তার উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে দূর্বৃত্তরা।
আজ (শুক্রবার) বেলা সাড়ে ১১টায় খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা মোটরসাইকেল যোগে শহরের শাপলা চত্বরের দিকে যাওয়ার পথে ৪-৫ জন যুবক প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে গতিরোধ করে। এসময় দূর্বৃত্তরা তাকে জোরপূর্বক একটি মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনি জেলা আইনজীবি সমিতির ভবনের দিকে দোড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে ধাওয়া করে ইট দিয়ে তার মাথায় ও শরীরে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এসময় জনতা ৪ দূর্বৃত্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
পরে পুলিশের সহায়তায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ সামশুল তাবরীজ আহতাবস্থায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে হাসপাতালে ভর্তি করে। খাগড়াছড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বেলা দেড়টায় কড়া নিরাপত্তায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমার ওপর হামলা খবর পেয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ছুটে যান খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক ডা. নয়নময় ত্রিপুরা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়েছে। তার মাথায় আঘাত লেগেছে।
ইউপিডিএফ মুখপাত্র নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমার ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও দোষীদের শাস্তি দাবি করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ’র একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে বলে জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা যেহেতু ইউপিডিএফ সমর্থিত ধারণা করা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা করতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা ৪ যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা নিহতের পর থেকে নিরাপত্তা জনিত কারণে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা।
আবু বকর/এমবি





