টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহের পর বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে তিস্তা অববাহিকায় ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। রাক্ষুসে তিস্তা তীরবর্তী মানুষের জন্য এখন আতঙ্ক। উজানের ঢলে সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আবার ঢল কমলে শুরু হচ্ছে ভাঙ্গনের তিস্তার পাড়ের লোকজন পড়েছে মহাবিপদে। তিস্তাপারের অসহায় মানুষজনের শেষ সম্বল ভিটেমাটি টুকু রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টায় ফল হচ্ছে বিফল। কিন্তু তাদের এই প্রয়াস ব্যর্থ হচ্ছে রাক্ষুসী তিস্তার ভয়ঙ্কর গ্রাসের কাছে।

এক দিকে নদী ভাঙ্গনে ভিটাবাড়ি আবাদি জমি শেষ হচ্ছে অন্য দিকে তিস্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্যরা নিদারুন কষ্টভোগ করছে। ঘরবাড়ি থেকে পানি কমলেও বাড়ি ঘর নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট ও স্যানেটেশন ল্যাট্রিকগুলো বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ায় পরিবারগুলোর মাঝে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ভাঙ্গন এলাকা ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়ি অসহায় মানুষজনের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি করে তুলছে। এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষে ৪ মেট্রিক খয়রাতি চাল ও ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল্য বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যানগন। ২য় দফায় বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ প্রয়োজন বলে জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেছেন।

গত চারদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারী ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ২৫টি চর গ্রাম ও তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি তলিয়ে রেখেছিল। বুধবার রাত থেকে তিস্তার পানি কমতে শুরু করে।

শুক্রবার সকালে তিস্তার পানি বিপদসীমার (৫২দশমিক ৪০) ১৮ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসার সাথে সাথে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। ভাঙ্গনের ফলে উপজেলার ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের ভেন্ডাবাড়ি, ছাতুনামা গ্রামগুলো লণ্ডভণ্ড হতে চলেছে।

tista-04.09.=শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ওই এলাকার প্রায় দুইশ' বিঘা ফসলি জমি ও ২২টি পরিবারের বাড়ির ভিটা নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। দেড়শত পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া ছাতুনামা ফরেস্টের চরের শতশত মুল্যবান গাছ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নদীতে ভেসে যাচ্ছে।

তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের এই পরিস্থিতি জানিয়ে ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী জানান, তিস্তার ভাঙ্গর তীব্র আকার ধারণ করায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো একে একে পথে বসতে শুরু করেছে।

ডিমলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের আব্দুল লতিফ খান জানান, ছাতনাই মৌজার ৫টি বসতবাড়ির ভিটা নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। সেখানে আরো ১৫টি বাড়ি হুমকীর মুখে থাকায় পরিবারগুলো তাদের ভিটের ঘর ভেঙ্গে অন্যত্র সরে যাচ্ছে।

অপর দিকে ডিমলা উপজেলার খড়িবাড়ীর গ্রামের তিস্তা নদীর ধারে স্বপন বাধের সংস্কারকৃত সিডিএমপির মাটির বাধটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে বাধটির ৫ শত মিটার তিস্তার নদীতে বিলিন হয়েছে।

এলাকাবাসী বাঁশের পাইলিং ও বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করছে বলে জানান টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, তিস্তার ভাঙ্গন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারগুলোর তালিকা তৈরী করতে স্ব-স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে।

এআর