নড়াইলের এক ব্যবসায়ীর ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় থ্রী পিস হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বজারের ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী বাবুল ট্রেডার্সের মালিক সোহরাব হোসেন এ ঘটনায় ঢাকা কোতয়ালী থানায় জিডি করেছেন। ক্ষতিগ্রস্থ ও জিডি সূত্রে জানা যায়,ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন এলসি’র মাধ্যমে ভারত হতে ১২শ থ্রী পিস আমদানি করেন। যা চলতি সনের ১৮ আগস্ট হযরত শাহাজালাল বিমান বন্দর হতে ছাড় করানো হয়।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আবাদার হাটখোলা গ্রামের হযরত আলী গাজীর পুত্র মেসার্স তানহা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহাবুবুর রহমান কোটন ওরফে ইমন এর মধ্যস্থতায় উক্ত থ্রী পিস ঢাকার ইসলামপুরের হায়াত দোলন কমপ্লেক্স মার্কেট এর মেসার্স হালিমা ফেব্রিক্স এর মালিক ওয়ালী উল্লাহ আহম্মেদ ওভি এর নিকট ৬৫ লাখ ৫৮হাজার ১২টাকায় (৬৫,৫৮,০১২/-) বিক্রি করেন। মালের মূল্য (৬৫,৫৮,০১২/-) পরিশোধ বাবদ মেসার্স হালিমা ফেব্রিক্স এর মালিক সুকৌশলে মেসার্স তানহা এন্টারপ্রাইজের নামে সমুদয় টাকার ২টা চেক প্রদান করেন।

অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে চেক দেয়ায়,ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন এ ধরনের চেক নিতে অস্বিকৃতি জানান। এসময় তারা তাকে নিরাপত্তার কথা বলে এবং নানাভাবে আশ্বস্ত করে টাকা ব্যাংক হতে তুলে নিতে বলেন। চেক ২টি মেসার্স তানহা এন্টারপ্রাইজের নামে দেয়া বিধায় চেকের পিছনে মেসার্স তানহা এন্টারপ্রাইজের মালিক সিল সাক্ষর দিয়ে ব্যবসায়ী সোহরাবকে টাকা তুলে নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ব্যাংকে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই হিসাবে টাকা না থাকার কথা জানিয়ে চেক ২টি ডিজ অনার করেন।

তখন ব্যবসায়ী সোহরাব বুঝতে পারেন তিনি প্রতারনার শিকার হয়েছেন। নিরুপায় হয়ে ব্যবসায়ী সোহরাব ওই দুই প্রতারকের নিকট গিয়ে টাকা দাবি করেন। তারা টাকা না দিয়ে নানাভাবে ঘুরাতে থাকেন। ওই প্রতারক চক্র ফোন দিলে রিসিভ না করে কেটে দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে ফোন বন্ধ করে দেন। এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ সোহরাব হোসেন তাদের দেয়া ঠিকানা মোতাবেক গিয়ে দেখেন সেখানে তাদের কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরার মাহাবুবুর রহমান কোটন ওরফে ইমন একজন পেশাদার প্রতারক। সে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার প্রতারনার শিকার হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ২০ জন ব্যবসায়ী পথে বসেছেন। দেশের বিভিন্ন থানায় তার নামে ডজন খানেক মামলা ও জিডি রয়েছে। নড়াইলের ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী প্রতারক চক্রের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে উল্লেখিত প্রতারক ব্যবসায়ীদেও সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।

জেড