গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সাবেক সর্বপ্রধান কারারক্ষী রুস্তম আলী (৬০) নিহতের ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার বিকালে জেলা পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

চার সদস্যের জেলা পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুলেমানকে।

এই কমিটির সদস্যরা হলেন- এএসপি (সদর সার্কেল) মনোয়ার হোসেন, ওসি (ডিবি) আমির হোসেন ও জয়দেবপুর থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজুর রহমান।

কমিটির বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুলেমান যুগান্তরকে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, কারা কর্তৃপক্ষের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ডিআইজি প্রিজন গোলাম হায়দারকে।

এই কমিটির সদস্যরা হলেন কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান ও কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর জেলার দেওয়ান মো. তরিকুল ইসলাম।

কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, কারা অধিদফতরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনের নির্দেশে এই কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, রুস্তম আলী নিহতের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন- নিহতের ভাই শাহ আলম, মেয়ের জামাই সোহেল রানা ও 'আহমদ মেডিসিন কর্নার'নামে দোকানটির মালিক সাইফুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, সোমবার সকালে মোটরসাইকেলে করে সন্ত্রাসীরা গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে হামলা চালালে গুলিতে সাবেক সর্বপ্রধান কারারক্ষী রুস্তম আলী নিহত হন।

তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে মঠবাড়িয়া উপজেলার চরকগাছিয়া গ্রামে। রুস্তম আলী কাশিমপুর মহিলা কারাগারের প্রধান কারারক্ষী ছিলেন। কারা আইন অনুয়ায়ী, কারারক্ষীদের প্রধানকে সর্বপ্রধান কারারক্ষী বলা হয়ে থাকে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নেছার আলম।

কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রশান্ত কুমার বলেন, রুস্তম আলী কারাগার থেকে বের হয়ে ২৫০ গজ দূরে 'আহমদ মেডিসিন কর্নার' নামে একটি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে যান।

এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই দুর্বৃত্ত তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই রুস্তম আলী মারা যান।

ওএফ