প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার একাউন্টে আড়াই হাজার কোটি টাকার ‘সন্দেহজনক লেনদেনের’ ঘটনা রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের মুক্তির দাবিতে এ সভার আয়োজন করা হয়।

নজরুল ইসলাম বলেন, এফবিআইয়ের (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা) একজন এজেন্টকে ঘুষ দিয়ে এক প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের ব্যাপারে কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছিল। সেখানে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের একটি অ্যাকাউন্টেই আড়াই হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ তিন শ' মিলিয়ন ডলার জমা আছে। এটি সন্দেহজনক লেনদেন।

শেয়ারবাজার ও ব্যাংক লুটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশের শেয়ারবাজার ও ব্যাংক লুট হয়ে গেছে। সে দেশের একজন নাগরিকের বিদেশের কোনো একাউন্টে যদি আড়াই হাজার কোটি টাকার মতো বড় অ্যামাউন্টের সন্দেহজনক লেনদেন হয়, তাহলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে- সে ব্যাপারে খোঁজ নেয়া, তদন্ত করা। জয় বাংলাদেশের নাগরিক। রাষ্ট্র আমাদের সকলের। তাই ব্যক্তি কে, সেটা রাষ্ট্রের দেখার বিষয় নয়। রাষ্ট্রের টাকা হলে সে টাকা অবশ্যই ফিরিয়ে আনতে হবে। আর যদি তদন্তে দেখা যায়, এটি রাষ্ট্রের টাকা না; তারই ন্যায্য, ট্যাক্স দেয়া ও উপার্জনের টাকা, তাহলে তো কোনো অসুবিধা নেই।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, এই সরকার কোনো অভিযোগই শুনতে রাজি নয়। বিশেষ করে কারো কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করা তো রীতিমত পাপও। একটি গণতান্ত্রিক দেশে কখনো এটা হতে পারে না। তবে পাপ কখনো চাপা থাকে না। বের হওয়া শুরু হয়েছে, বের হচ্ছেও। এটিই প্রকৃতির নিয়ম।

গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী স্যায়েদুল আলম বাবুলের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, সহ-দপ্তর সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, জলবায়ু পরিবর্তন-বিষয়ক সম্পাদক আফজাল এইচ খান প্রমুখ।

এমআইএস