আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কার্যক্রম। গত বছরের ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু গত এক বছরে শুধুমাত্র জমি অধিগ্রহণ ছাড়া এ প্রকল্পের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি।
জানা যায়, ইতমধ্যে ভেড়ামারা উপজেলায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণে জন্য ৫০৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হলেও তা আজও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)’র নিকট হস্তান্তর করা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের দাবী বেজার কাছে জমি হস্তান্তর হলে দ্রুতই শুরু হবে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কার্যক্রম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের ঘোষণা দেয় সরকার। ঘোষণার পর ভেড়ামারায় রেলওয়ের প্রায় ৫০৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। কিন্তু সেই জমি অধিগ্রহণ করলেও তা আজও বেজার কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
সুত্র জানায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, গ্যাস সহজলভ্যতার জন্য দেশের ২২টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে উপযোগী স্থান হিসেবে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলাকে বিবেচনা করেন ভারত সরকার এবং সে দেশের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এজন্য ভেড়ামারা উপজেলার চরমোকারিমপুর, আরাজিসারা এবং চররুপপুরে প্রায় ৫০৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে। রেলওয়ে এবং সরকারের অব্যবহৃত জমি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় এই এলাকাটিকেই বেছে নেয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য। এদিকে অর্থনীতি
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এসএম কাদেরী শাকিল বলেন, ভেড়ামারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণে দ্রুত উদ্যোগ জরুরি। তবে এক্ষেত্রে বিদেশীদের পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের প্রাক্তন সভাপতি আশরাফ উদ্দিন নজু বলেন, ভেড়ামারায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলে শুধু বিদেশি প্রতিষ্ঠানই নয়, দেশের তথা কুষ্টিয়ার অনেকেই এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সদর উদ্দিন বলেন, কুষ্টিয়ায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলে বেকার সমস্যার সমাধান হবে, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হবে। মানুষের বেকারত্ব দূর হবে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, ইতমধ্যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুতই অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তারপরই শুরু হবে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কাজ। তিনি আরও বলেন, ভেড়ামারায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে এ এলাকায় তথা কুষ্টিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসাইন বলেন, ভেড়ামারায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে এলাকার মানুষের জীবনমান বৃদ্ধি পাবে। এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শান্তিমনি চাকমা জানান, ইতোমধ্যে ভারতের খ্যাতনামা আম্বানি টাটার মত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ওই এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করেছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন। শুধু ভারতই নয়, চীন এবং জাপানের মত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশের প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র শামিমুল ইসলাম ছানা জানান, ভেড়ামারায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হলে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে।
এমবিএইচ





