নীলফামারীর জলঢাকায় ফেবস সোসাইটি এন্ড ফেবস সোর্র্সিং লিঃ নামে একটি এনজিও আবির্ভাব হয়ে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, পৌর শহরের কদমতলী এলাকায় ৩ মাস আগে অফিস খুলে বসে ফেমাস বাংলা সোসাইটি (ফেবস) নামের একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান। তারপর শুরু হয় আকাশ ছোঁয়া সুবিধা প্রদানের কথা। তারা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নসহ পৌর সভায় ৬শত স্কুল তৈরী করবেন। সেগুলো হবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত রস্ক প্রকল্পের আনন্দ স্কুলের মত। প্রতি স্কুলে ২০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে থাকবেন একজন শিক্ষক।
শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ নিতে জন প্রতি লাগে ৫ হাজার টাকা। স্কুল সুপার ভাইজার নিয়োগে লাগে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। নিয়োগ কৃতদের ছাত্র-ছাত্রী সংগ্রহ হলে তাদের প্রত্যেকের নিকট ২শত ২০ টাকা ছবি বাবদ নেওয়া হচ্ছে। এসব ছবি বিদেশে পাঠালে মোটা অংকের সাহায্যসহ বিভিন্ন সহযোগীতা আসবে।
সরেজমিনে ফেবসের দাবীকৃত কর্মএলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের কোন বাস্তবতা নাই। কারো রান্নাঘর কারোবা শোয়ার ঘর দেখিয়ে থতমত অবস্থায় শিক্ষক হিসাবে পরিচয় দানকারী বালাগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়ার মমতা বেগম, হাজী পাড়ার মাজেদুল জানান, প্রায় ৩মাস হল আমাদের কাছ থেকে ফেবস অফিসে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগের জন্য প্রত্যেকের কাছে ৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। এখনও কোন নিয়োগপত্র কিংবা টাকা গ্রহনের রশিদ দেননি। এমন কথা জানান কাঁঠালী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার জামিয়ার রহমানের ছেলে মামুনার রশিদ।
মামুনার আরও জানায়, এখন ছবি তোলার জন্য প্রতি স্কুলে ফের ৪ হাজার ৪ শত টাকা জন্য চাপ দিচ্ছেন। কদমতলী এলাকার আবেদ আলী জানান, ‘দৈনিক এই সড়কে যাতায়াত করি। ফেবস অফিসটির সামনে লোকজনের জটলা চোখে পড়ে। শুনেছি তারা নাকি শত শত শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছেন। এমন যদি হয় তাহলে সরকারী প্রাইমারী স্কুলের দরকার কি?’ ফেবস অফিসের দায়িত্বে থাকা অভিযুক্ত আবু রায়হান ফেরদৌস (রানা) জানান, এখান থেকে গোটা জেলায় কার্যক্রম চলবে। আমাদের হেড অফিস উত্তরা, ঢাকা। দাতা সংস্থার নাম মাদার তেঁরেসা। এর বেশি কথা বলতে তিনি নারাজ। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান হাবিবের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে উল্টো সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘আপনারা লিখিত অভিযোগ দিলে আমি ব্যবস্থা নিতে পারি’।
অপরদিকে প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হেড অফিসের মোবাইল নম্বর গুলোতে যোগাযোগ করা হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
জেআই





