এইচএসসিতে একই সঙ্গে পাশ করেছেন নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলা সদর আবদুল মজিদের স্ত্রী মাসুমা খাতুন ও মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস।

মাসুমা খাতুনে বলেন, সমাজে আর দশটা মানুষের মতো নিজেকেও একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে যাতে পরিচয় দিতে পারি, সে কারণেই এই বয়সে কষ্ট করে লেখাপড়া করা।

গত বুধবার ঘোষিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস জিপিএ-৫ পেয়েছেন, আর মা মাসুমা জিপিএ-৪.১৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। মা-মেয়ের একসঙ্গে পাস করার খবর শুনে তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছেন কলেজের সহপাঠী, শিক্ষক এবং প্রতিবেশীরাও।

পড়াশোনা করার তীব্র সে আকাঙ্ক্ষা থেকেই এইচএসসি পরীক্ষায় বসেছিলেন তিনি। মাসুমার কষ্ট বৃথা যায়নি, বুধবার ঘোষিত ফলাফলে তিনি ও তাঁর মেয়ে দুজনেই উত্তীর্ণ হয়েছেন।

মাসুমা খাতুন বাগাতিপাড়া পৌর মহিলা বিএম কলেজের সেক্রেটারিয়েল সায়েন্স ট্রেডের ছাত্রী ছিলেন।

এর আগে মাসুমা খাতুন মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ২০১৭ সালে মেয়ের সাথে এসএসসি পাস করেন। এবার সেই মেয়ের সাথে একইসঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হলেন।

মাসুমা খাতুনের বাবার বাড়ি বাগাতিপাড়া উপজেলার বারইপাড়া গ্রামে। বিয়ে হয় বাগাতিপাড়া উপজেলা সদরে। স্বামী আব্দুল মজিদ আনসার ব্যাটালিয়নে সিপাহী (প্রশিক্ষক) পদে (কর্মস্থল গাজীপুর) চাকরি করেন। মাসুমা খাতুনের ২ সন্তান। বড় ছেলে বনি আমিন বাগাতিপাড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র।

মাসুমা খাতুন বলেন, বিয়ের ১৮ বছর পেরিয়ে গেছে। পরপর ২ ছেলে-মেয়েকে মানুষ করতে গিয়ে নিজের পড়ার কথা ভাবারই সময় পাইনি। অবশেষে ছোট মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে নতুন করে পড়ালেখা শুরু করি।

মাসুমা খাতুনের স্বামী আব্দুল মজিদ জানান, তার জন্য একটু কষ্ট হলেও তিনি স্ত্রীর ইচ্ছাটার মর্যাদা দিয়েছেন। সে যতদূর পড়াশোনা করতে চাইবে তিনি তা চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

১৯৯৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন তিনি। কিন্তু পরীক্ষার আগেই তার বিয়ে হয়ে যায়। নতুন সংসারে গিয়ে তার আর সে বছর পরীক্ষায় বসা হয়নি। কিন্তু তাই বলে তিনি থেমে যাননি মাসুমা খাতুন।

এএস