প্রতিবন্ধি স্কুলছাত্র স্বরজিৎ, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বেলেঘাট গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহন করে। জন্ম থেকেই তার দুটি পা অচল। পড়াশুনার ব্যাপক আগ্রহ থাকায় কষ্ট করেই তারা বাবা স্কুলে ভর্তি করে দেন। এখন সে অষ্টম শ্রেণীতে। হুইল চেয়ারকে গাড়ির মত করে ব্যাবহার করেই নিয়মিত স্কুলে যায় সে।
স্বরজিৎ আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে, কিন্তু তাদের অভাব কমছেনা। তৃতিয় শ্রেণীতে পড়ার সময় স্কুলের শিক্ষকরা চাঁদা দিয়ে তাকে একটি হুইল চেয়ার কিনে দেয়।
সে হুইল চেয়ারটি এখন জীর্ন শির্ন প্রায়। নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার জন্য তার একটি হুইল চেয়ার প্রয়োজন। কিন্তু দরিদ্র বাবার পক্ষে তাকে চেয়ার কিনে দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
বাড়ি থেকে স্কুলে যেতে প্রতিদিন দুই দুই করে চার কিলোমিটার পথ চলতে হয় তাকে। পুরাতন হুইল চেয়ারে দীর্ঘ পথ প্যাডেল করায় মাঝে মাঝে হাতে যন্ত্রণা হয় বলে জানায় স্বরজিৎ। তার অশংকা গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেলে আমি কীভাবে স্কুলে যাব ?
নিজের পায়ে চলতে না পারার বিষটি চিন্তা করে মাঝে মাঝে কষ্ট পায় সে। আবার ঠিক হয়ে যায়। তার চিন্তা সে বড় হয়ে ভালো কিছু করবে। পা না থাকার কষ্ট ভুলে যাবে।
স্বরজিতের বাবা গোপাল ঘোষ ও মা অর্চনা ঘোষ। তারা জানান, দুই ছেলের মধ্যে স্বরজিৎ বড়। জন্মের পর থেকেই ওর দুটি পা বিকল হওয়ায় চলাফেরা করতে পারে না। লেখাপড়া করার প্রতি তার অনেক ইচ্ছা থাকায় তাকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছি। অভাবের সংসার। কৃষিকাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনোরকম সংসার চালাই। প্রয়োজন থাকা সত্বেও ছেলেকে একটি হুইল চেয়ার কিনে দিতে পারছিনা।
তারা জানান, রাস্তার অবস্থাও বেশি ভালো না। প্রায়ই তার দু’হাতে ব্যথা হয়। এই ব্যথা নিয়েই সে প্রতিদিন স্কুলে যায়। পড়াশুনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সমাজের বিত্তবান যেকারো কাছে তারা স্বরজিতের জন্য একটি হুইল চেয়ার চায়।
তারিক/জারিফ





