টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে প্রথম দফায় তাবলিগ জামাতের ৪৯ তম বিশ্ব ইজতেমা। আগামী ১১ জানুয়ারি প্রথম পর্বের আখেরি মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

৪ দিন বিরতির পর ১৬ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে এবং ১৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে বলে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির সদস্য আবদুল কুদ্দুস জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ১৬০ একর জমির উপর বিশাল ময়দানে চটের তাবু ও বাঁশ দিয়ে প্যান্ডেল তৈরির কাজসহ অন্যান্য সকল প্রস্তুতি মূলক কাজ বেশ পুরোদমে এগিয়ে চলছে ।

আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে দেশ-বিদেশের তাবলিগ জামাতের মুসল্লীরা জমায়েত হবেন বলে ইজতেমার আয়োজকরা জানান।

এরমধ্যে প্রথম পর্বে ৩৩টি জেলা এবং দ্বিতীয় পর্বে ৩১ জেলার তাবলিগ জামাতের মুসল্লীরা শরীক হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯৬৬ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে তাবলীগ জামাতের তিনদিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

মুসল্লীদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় গত তিন বছর যাবৎ দু. দফায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার প্রতিনিধিও যোগদান করে থাকেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল জানান, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের মুসল্লিদের সার্বিক সুযোগ সুবিধাসহ আনুষাঙ্গিক কাজ সুনিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায় থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি ইজতেমায় আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কোন ধরনের অসুবিধা হবে না।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বাসসকে জানান, অন্যান্য বারের মতো এবারও সেনাবাহিনী, র্যা ব, পুলিশ, আনসার ও সাদা পোশাকে কয়েক হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকবে শর্টসার্কিট ক্যামেরা,ওয়ার্চ টাওয়ার ও হেলিকপ্টারের সার্বিক ব্যবস্থা।

ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পশ্চিম কোনে বিদেশী মেহমানদের জন্য টিন দিয়ে তৈরি টিন ও চটের তাঁবু নির্মাণ করা হচ্ছে। তাঁবুতে উন্নত স্যানিটেশনসহ যাবতীয় কাজ উন্নতমানের করা হচ্ছে। আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে ময়দানের চারপাশে কাচা পাকা টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় ভিআইপি মুসল্লিদের জন্য ময়দানের উত্তর পার্শ্বে তাবু নির্মাণ করা হয়েছে।

ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের অবাধ চলাচলের জন্য তুরাগ নদীতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা পল্টুন সেতু তৈরির কাজ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়টি পল্টুন ব্রিজ তৈরি কাজ প্রায় শেষের দিকে। সেই সাথে তুরাগ নদীর উপর সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ভাসমান সেতুর সকল ধরনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পথে।

মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য থাকবে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ ট্রেন ও বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ বিশেষ বাস সার্ভিস। এছাড়া বিদেশী অতিথিদের জন্য হযরত শাহজালাল (রহ,) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইজতেমা ময়দান পর্যন্ত বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ইজতেমায় লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সেবা প্রদান করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ৪০ থেকে ৪৫টি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পালন করবে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মশক নিধনসহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ তদারকি করা হবে বলে জানা গেছে।
টঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন জানান, এবারের বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তার তিনস্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজ শুক্রবার টঙ্গী তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমা মাঠের চটের বিশাল সামিয়ানার নিচে এক কাতারে সামিল হয়ে পবিত্র জুম্মার নামাজে প্রায় অর্ধ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলির অংশগ্রহণ করে।

প্রথম পর্বে ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, ভোলা, যশোর, বাগেরহাঁট, বান্দরবন, ফেনী, সিলেট, মেহেরপুর, রাজশাহী, জয়পুরহাঁট, নাটোর, হবিগঞ্জ প্রমুখ।

আর দ্বিতীয় পর্বে ৩১টি জেলার মুসল্লির তাবলিগ অনুসারি দলের সদস্যরা অংশগ্রহণ করবে।

জেএ