বিশ্ব বাঘ দিবস আজ। ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবাগে আয়োজিত এক বাঘ সম্মেলন থেকে এই বাঘ দিবসের সূচনা হয়।
বিশ্বে ক্রমান্বয়ে বাঘ কমে যাওয়ার কারণে এর সুষ্ঠ পরিচর্যা এবং বসবাসের জন্য যথাপোযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে ২০২০ সালে মধ্যে এর সংখ্যা দ্বিগুণ করার উদ্দেশ্যে এই বাঘ দিবস প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় এই দিবস। বিশেষ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন WWF, IFAW and the Smithsonian Institute দিবসটি উপলক্ষে
বিভন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে।
বিশ্বায়নের যুগে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বিড়াল প্রজাতীর মধ্যে অন্যতম এই প্রাণীটি। প্রায় শতাব্দি আগেও যার সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষের উপরে ছিল। বর্তমানে তা সারাবিশ্বে কয়েক হাজারের ভিতরে এসে পড়েছে।
ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ডের তথ্যমতে, একশ বছর আগে সারাবিশ্বে বাঘ বিচরণ করতো এক লাখেরও বেশি। আর এখন পৃথিবীতে শতকরা ৯৫ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯০০টি বাঘ অবশিষ্ট আছে।
বিশ্বায়ন ও সুষ্ঠু পরিবেশের অভাবে্ বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশেও বাঘের একমাত্র আবাসস্থল সুন্দরবনেও কমেছে বাঘের সংখ্যা। গত তিন বছরে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি থেকে বেড়ে এখন ১১৪টি হয়েছে। যেটা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সুন্দরবনে এক সময় প্রায় সাড়ে ৫শ রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিচরণ করত। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরিবেশ দূষণ আর চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্যে কমছে বাঘের সংখ্যা; এমনটাই মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
এ বিষয়ে সুন্দরবন বিভাগের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৩৫০টি। ১৯৮২ সালে জরিপে ৪২৫টি এবং ১৯৮৪ সালে অভয়ারণ্যের ১১০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় জরপি চালিয়ে ৪৩০-৪৫০টি বাঘ থাকার কথা জানানো হয়। ১৯৯২ সালে ৩৫৯টি, ১৯৯৩ সালে সুন্দরবনের ৩৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্যাগমার্ক পদ্ধতিতে জরিপ চালিয়ে ৩৬২টি বাঘ থাকার কথা জানা যায়। ২০০৪ সালে জরিপে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০টি। ওই সময়ে বাঘের পায়ের ছাপ গণনা করে জরিপ করা হতো। ২০১৫ সালের জরিপে সুন্দরবনের বাংলাদশে অংশে বাঘের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে দাঁড়ায় ১০৬টিতে। হঠাৎ করে বাঘের সংখ্যা ৪০০ থেকে ১০৬ হওয়ায় ব্যাপক আলোচনায় আসে বিষয়টি। চলতি বছরের ২২ মে সর্বশেষ বাঘ জরিপ অনুযায়ী, বাঘের সংখ্যা বেড়ে ১১৪টি হয়েছে।
২০০১-২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫০ বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে মাত্র ১০টি। ১৪টি বাঘ পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয়রা। ২০০৭ সালে একটি মারা যায় সিডরে। বাকি ২৫ বাঘ হত্যা করেছে চোরা শিকারিরা।
বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলে বাঘের সংখ্যা কমেলও একই বনের ভারতীয় অংশে বাঘের সংখ্যা দেখা দিচ্ছে আশার বাণী। ২০১০ সালে ভারতীয় সুন্দরবনে ছিল ৭০টি বাঘ। ২০১৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৭৬টি। আর বাঘ নিয়ে পুরো ভারতের রিপোর্টেও দেখা দিয়েছে অগ্রগতি।
বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা কম বিষযে সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ ও সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বনদস্যুদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে বাঘ। তারা বাঘ শিকার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করে থাকে। সুন্দরবনের পাশে যেকোনও ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন থেকে সরকারকে বিরত থাকতে হবে।’
সমস্যা প্রতিকার হিসেবে বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ এবং শিকারিদের দৌরাত্ম্য কম হওয়ায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বেড়েছে। বাঘের অবাধ চলাচলের জন্য সুন্দরবনের অর্ধেকেরও বেশি এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে টহল ফাঁড়ি। পাশাপাশি চোরা শিকারিদের তৎপরতা বন্ধে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট প্রেট্রোলিং চালু করা হয়েছে। বাঘের প্রজনন মৌসুম জুন-আগস্ট এই ৩ মাস সুন্দরবনে পর্যটকদের আসা বন্ধ করতে যাচ্ছে বন বিভাগ। এতে প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ বাঘ অবাধ চলাচল করতে পাবে। সুন্দরবনকে বন্যপ্রাণীর জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে কাজ করছে বন বিভাগ।
পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার তালুকদার বলেন, ‘বর্তমান সরকার বাঘের সংখ্যা বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করা হয়েছে। যার সুফল কিন্তু দেখা যাচ্ছে। তিন বছরে ৮টি বাঘ বেড়েছে। সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাবে।’
জেড





