ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যামিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতির মুল কারণ  অভাব ও লোভ। প্রভাবশালীদের লোভ ও চাহিদার কোনো অন্ত নাই।  আর এ লোভের কারণে প্রভাবশালীরা অর্থ আত্মসাত করে বিদেশে পাচার করছে।

আজ রোববার শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা অডিটরিয়ামে দুর্নীতি দমন কমিশনের দশম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এ কথা বলেন।কমিশনের সচিব মো: মাকসুদুল হাসান খানের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি কমিশনের চেয়ারম্যান মো: বদিউজ্জামান ও কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ। 

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় দুদকের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। আর প্রতিকার পায় বলেই দুদকের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশী। তিনি বলেন , সমাজেও দুর্নীতি প্রতিরোধের চেতনা সৃষ্টির প্রয়োজন। পরিবার যদি দুর্নীতির দায় না নেয় তাহলে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ সৃষ্টি  সহজ হবে।

এর আগে সকাল সাড়ে নয়টায় দুদকের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গনে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও কমিশনের পতাকা উত্তোলন করেন দুদক চেয়ারম্যান মো: বদিউজ্জামান ও কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ। এরপর কমিশনের চেয়ারম্যান সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে নিয়ে কেক কাটেন। আলোচনা সভার ফ্রথমে চেয়ারম্যান মো: বদিউজ্জামান কমিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান। 

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের কমিশনের প্রতি ক্রমাগত আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে শুধু দুর্নীতিই নয়, হাজারও রকমের অভিযোগ কমিশনে আসছে। অনেক দরজা ঘুরে ঘুরে কমিশনে অভিযোগ নিয়ে আসছে সাধারণ মানুষ।

কমিশন  প্রাপ্ত অভিযোগ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেই না।  আমাদেরকে দায়মুক্তি কমিশন বলা হলে আমাদের প্রতি অবিচার করা হবে। এদেশে ইতোপূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুর্নীতি দমন ব্যুরোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এমন কোন নজির পাবেন না যে, ক্ষমতাসীন সরকারে মন্ত্রীদের ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ বলেন, বর্তমান কমিশন দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সমগুরুত্বের সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তিনি বলেন দুর্নীতি সামাজিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে কমিশন দেশের ৫টি জেলার ১০টি উপজেলায় গণশুনানীর মত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আলোচনা শেষে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

একে,