প্রবাসীদের নিপীড়ন নিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় সাক্ষাৎকার দেওয়ায় বাংলাদেশি তরুণ মো: রায়হান কবিরকে গ্রেফতার করেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের এক টুইট বার্তায় জানানো হয়, খবর দ্য স্টার।
আজ (২৫ জুলাই) শনিবার মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং তার মালয়েশিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেডে প্রেস (এপি) এখবর জানিয়েছে।
গত ৩ জুলাই আল-জাজিরার ইংরেজি অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে ‘লকডআপ ইন মালয়েশিয়ান লকডাউন-১০১ ইস্ট’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ২৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ওই প্রতিবেদনে করোনাভাইরাস মহামারীতে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের সঙ্গে সরকারের আচরণ নিয়ে কথা বলেছিলেন রায়হান কবির।
সংবাদমাধ্যমটির ইউটিউব চ্যানেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকে এর সমালোচনা শুরু করে মালয়েশিয়া। দেশটির সরকার ওই প্রতিবেদনে তোলা অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে।
আল-জাজিরার ওই প্রতিবেদন প্রচারের পর থেকেই সাক্ষাৎকার দাতা বাংলাদেশি রায়হার কবিরের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তার বিষয়ে তথ্য দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিও দেয়া হয়। পরে রায়হানের ওয়ার্ক পারমিট (কাজের অনুমতি) বাতিল করে দেয়া হয়। এতে করে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হন তিনি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, “অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে পলাতক হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশি রায়হান কবিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
মালয়েশিয়ার তদন্ত সংস্থা সিআইডি’র ডেপুটি পরিচালক ফরিদালাতরাশ ওয়াহিদের বরাত দিয়ে দেশটির বার্নামা টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ রায়হান কবিরকে গ্রেফতার করে স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আল-জাজিরার বেশ কয়েকজন কর্মীকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি।
রায়হান কবিরের বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের বন্দরে। তার বাবা শাহ আলম একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ২০১৪ সালে তোলারাম কলেজে থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে মালয়েশিয়া চলে যান রাহয়ান। সেখানেই বিএ পাস করেন।
এমবি





