চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায় যাচ্ছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ১০ জন সদস্য। আজ শুক্রবার দুপুর নাগাদ তাঁদের সেখানে আসার কথা রয়েছে।

জাতীয় কমিটির চট্টগ্রামের সদস্যসচিব প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন এই তথ্য জানান।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, ১০ সদস্যের মধ্যে আছেন জাতীয় কমিটি সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল। কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। সংঘর্ষে হতাহত হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানাবেন। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন। বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান ঘুরে দেখবেন।

আজ বিকেল তিনটায় গণ্ডামারায় বসতভিটা ও গোরস্থান রক্ষা কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে। কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গণ্ডামারায় অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্ক রয়েছে পুলিশ।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ১০ জন সদস্য এলাকা পরিদর্শনে আসছেন। বিকেলে বসতভিটা ও গোরস্থান রক্ষা কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশ আছে।

সবদিক বিবেচনায় নিয়ে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ওসি স্বপন কুমার মজুমদার আরও বলেন, গণ্ডামারায় বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন সরঞ্জামে হামলা ও ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই যেখানে সরঞ্জাম রয়েছে, সেখানে আজ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে।

এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার লিমিটেড ও চীনের দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে গণ্ডামারা ইউনিয়নে ২৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হচ্ছে। গত সোমবার গণ্ডামারার হাদিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পক্ষে-বিপক্ষের লোকজন সমাবেশ ডাকেন।

এ নিয়ে সংঘর্ষে দুই ভাইসহ চারজন নিহত হন। আহত হন অনেকে। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় লিয়াকতসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় তিন সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এইচ ই