গত ০৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার লে. জেনারেল কাসেম সোলাইমানিসহ ১০ জওয়ান ও কমান্ডার নিহত হন। এই ঘটনার জেরে তেহরান-ওয়াশিংটন উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে।
এই ইস্যু নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, আমরা সব জায়গায় স্থিতিশীলতা চাই, শান্তি চাই। কারণ আমরা সব জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছি। আরেক দেশে ঝামেলা হোক আমরা সেটা চাই না।
মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মুজিববর্ষ উদযাপন সমন্বয় কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
এক প্রশ্নে ড. আব্দুল মোমেন বলেন, অন্যরা ঝগড়া-ঝাটি করুক। কিন্তু আমরা ব্যালেন্সড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ননঅ্যালাইনড (ভারসাম্যপূর্ণ জোটনিরপেক্ষ শক্তি) থাকতে চাই। আমাদের নীতি- সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। ওরা ওখানে ঝগড়া-ঝাটি করুক, এটা তাদের ঝগড়া-ঝাটি, আমাদের নয়।
উত্তাল ইরাকে বাংলাদেশি কর্মীদের সবশেষ অবস্থা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেটা ভেবে আমরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। আমরা নিরবচ্ছিন্ন খবর রাখছি। আমাদের প্রায় লাখ তিনেক শ্রমিক ইরাকে আছেন। তারা সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো তো খুব টার্গেটেড অ্যাটাক (সুনির্দিষ্ট আক্রমণ) হচ্ছে, সুতরাং তারা (বাংলাদেশি কর্মী) এখনো কোনো ঝামেলায় পড়েনি। তাছাড়া গতকালও রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। আমি বলেছি আপনি খোঁজ রাখেন এবং ওদেরকেও সতর্ক থাকতে বলেন।
তিনি বলেন, “আমরা গ্লোবালাইজড ওয়ার্ল্ডে আছি। এখানকার কোথাও যদি অস্থিতিশীলতা হয়, আমাদের দুশ্চিন্তা হয়। কারণ আমাদের এক কোটি ২২ লাখ লোক বিভিন্ন দেশে আছে। তাদের ইকোনমি খারাপ হলে আমাদেরও দুঃখ লাগে। কারণ সেখানে স্থিতিশীলতা থাকলে আমাদের উন্নয়নের রোডম্যাপ বাস্তবায়ন সহজ হয়।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে শান্তি কামনা করে বলেন, আমরা সব জায়গায় স্থিতিশীলতা চাই, শান্তি চাই। কারণ আমরা সব জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছি। আরেক দেশে ঝামেলা হোক আমরা চাই না।
ভারতের নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক বেশ উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। আজকেও প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তা আমাদের জ্ঞাত, ধর্তব্যের মধ্যে আছে।
ড. আব্দুল মোমেন বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটা অভ্যন্তরীণ একটা বিষয়। এটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েও যাচ্ছে। ইনিশিয়ালি বেশ অস্থিরতার মধ্যে ছিল, আস্তে আস্তে সেটা কমে আসছে। আশা করি, এটা শান্তিপূর্ণভাবে তারাও ম্যানেজ করবে। এটার কারণে দুই দেশের অন্যান্য যে বিষয়গুলো আছে, সেসব যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটাও আমরা সবাই খেয়াল রাখব।”
এমবি





