প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যু। এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা এক শ’ ছুঁই ছুঁই। ডেঙ্গু আতঙ্ক যেন বেড়েই চলছে।

একের পর এক লাশের মিছিলে যোগ হচ্ছে শিশু-বৃদ্ধসহ সকল শ্রেণির মানুষ। বাড়ছে উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগে। কোন মতেই নিস্তার মিলছে না। এই মহামারি ছোবল থেকে। ডেঙ্গুর প্রকোপ এ যেনো 'বিনা মেঘে বজ্রপাতের' মতো।

নগরীতে কয়েক হাজার বহুতল ভবন রয়েছে। সবগুলো ভবনের ছাদে ওঠা সম্ভব নয়, তাই ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। তাই বরিশাল নগরীর বহুতল ভবনগুলোর ছাদে পানি জমে আছে কিনা তা দেখতে ড্রোন ব্যবহার করছে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সরাসরি তদারকি করছেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

গত মঙ্গলবার বিকেলে তিনি জানান, রাজধানীতে ডেঙ্গু দেখা দেয়ার পর থেকেই বরিশাল নগরীতে সচেতনামূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। অফিস, আদালত, বসতবাড়িতে যে সব স্থানে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে তা পরিস্কার রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে।

মেয়র জানান, বহুতল ভবনের ছাদে এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগি পরিবেশ বা লার্ভা রয়েছে কিনা তা সন্ধানে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগি পরিবেশ দেখা গেলেই সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যাচ্ছেন কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। কোন ভবনে লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া গেলে ভবন মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান মেয়র।

গত ২৪ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৩৪৮ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮৩, মিটফোর্ডে ১০৪, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৩৮, শহীদ সোহরাওয়ার্দীতে ৮৬, বারডেমে ১৯, বিএসএমএমইউয়ে ৪৩, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ২৬, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২১, বিজিবি হাসপাতালে ৭, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৪২ ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৪৮ জন ভর্তি হন। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৪৬১ ও ঢাকা ছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগে ১ হাজার ৬৪ জন ভর্তি হন।

ঢাকা শহর ব্যতীত ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ২৭৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩১, খুলনা বিভাগে ১৬৪, রংপুর বিভাগের ৬৬, রাজশাহী বিভাগের ১০৬, বরিশাল বিভাগে ১২৪, সিলেট বিভাগে ৩২ ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৬৮ জন ভর্তি হন।

এএস