চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় আজ সোমবার সকালে হাজির হন বাবলু ধর (২১) নামের এক যুবক। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেন, গতকাল রোববার তাঁর ভগ্নিপতি অঞ্জন ধরকে (৩৫) খুন করে লাশ​ বাসার ভেতর বস্তাবন্দী করে রেখেছেন তিনি। পরে পুলিশ তাঁকে সঙ্গে নিয়ে নগরের টেরিবাজার এলাকার আফিনী গলির পাঁচতলার ফ্ল্যাটে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসাইন বলেন, আজ সকাল নয়টার দিকে বাবলু থানায় হাজির হয়ে দাবি করেন যে বোনকে নির্যাতনের কারণে তিনি ভগ্নিপতিকে খুন করেছেন।

পুলিশকে দেওয়া বাবলু ধরের বর্ণনা মতে, গতকাল সকালে তাঁর বোন সাত বছর বয়সী মেয়ে ও তিন বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে যান। বাসায় তিনি ও তাঁর ভগ্নিপতি ছিলেন। শোয়ার ঘরে তিনি ভগ্নিপতিকে ছুরিকাঘাত করে খুন করেন। পরে লাশটি বস্তাবন্দী করে রাখেন। বাসার বাইরে তালা দিয়ে রক্তমাখা কাপড়চোপড় একটি খালে ফেলে দেন। বোনকে ফোন করে জানিয়ে দেন, তাঁর ভগ্নিপতি একটি কাজে মানিকছড়ি গেছেন। স্কুল ছুটির পর যাতে সন্তানদের নিয়ে তিনি বাসায় না ফেরেন।

পুলিশ জানায়, বাবলু তাদের বলেছেন যে গতকাল লাশটি বাসার বাইরে কোথাও ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও শেষ পর্যন্ত তা করতে পারেননি। অগত্যা আজ সকালে তিনি থানায় হাজির হয়ে পুলিশের কাছে খুন করার কথা স্বীকার করেন।

নিহত অঞ্জন ধর নগরের হাজারী গলির একটি সোনার দোকানের কারিগর। আট বছর আগে বাবলুর বোন প্রিয়াঙ্কা ধরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তিনি যে দোকানে কাজ করেন, বাবলু ওই দোকানে কাজ শিখতেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গেই টেরিবাজার এলাকার বাসায় থাকতেন।

স্বামী ও ভাইকে মুঠোফোনে না পেয়ে সন্তানদের নিয়ে বাসায় ফিরে প্রিয়াঙ্কা ধর দেখেন, বাসার বাইরে আরেকটি তালা দেওয়া। পরে তিনি সন্তানদের নিয়ে নগরের পাথরঘাটায় বাবার বাসায় চলে যান। আজ সকালে পুলিশ খবর দিলে বাসায় গিয়ে স্বামীর বস্তাবন্দী লাশ দেখতে পান তিনি।

canvasপ্রিয়াঙ্কার ভাষ্য, স্বামীর সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য কলহ ছিল। কিন্তু তাঁর ভাই তাঁর স্বামীকে এভাবে মেরে ফেলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

আজ ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, পাঁচতলার ফ্ল্যাটের শোয়ার ঘরে বস্তাবন্দী রয়েছে অঞ্জনের লাশ। ঘরের মেঝেতে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা।

সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক এ এম ফারুক বলেন, নিহত ব্যক্তির গলা, বুকসহ শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশটি ফুলে গন্ধ বের হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও কেরোসিন তেল পাওয়া গেছে বাসা থেকে।

বাসাটির মালিক পরিমল দত্ত বলেন, দুই বছর আগে অঞ্জন ধর বাসাটি ভাড়া নেন। তাঁর সঙ্গে বাসায় মা, স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালক বাবলু থাকতেন। কিন্তু পূজার পর তাঁর মা গ্রামের বাড়ি বাঁশখালী থেকে এখনো ফেরেননি। বাসায় কোনো প্রহরী নেই। সব ভাড়াটের কাছে গেটের চাবি আছে। বাসায় পুলিশ আসার পর তিনি জানতে পারেন, অঞ্জনকে বাসার ভেতর খুন করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য অঞ্জনের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ। নিহত অঞ্জনের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর (অঞ্জনের) শ্যালক বাবলু হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি দেওয়ার জন্য তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হবে। সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে।

জারিফ