চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাগান বাজার ইউপি চেয়ারম্যানের রুস্তম আলীর বাড়িতে নিহত গৃহপরিচারিকা শিরিন আক্তার (২৯) এর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বাগান বাজার ৮ নাম্বার ওয়ার্ড রসুলপুরে জুলফু মিয়ার বাড়ীর (মেয়ের নানার বাড়ীর পেছনে) পাহাড়ের ঢালে মাটি চাপা দেয়া শিরিনের লাশ তোলার পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভূজপুর থানার হেলাল উদ্দীর ফারুকী এ খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে যুবতী শিরিনের লাশ তোলা হয়েছে । এসময় উপস্থিত ছিলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিমুল হায়দার ও ভুজপুর থানার ওসি আব্দুর লতিফ।
এর আগে চেয়ারম্যান রুস্তমের বিরুদ্ধে শিরিনকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন নিহতের এর পিতা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে কোর্টে মামলা (১৫২/১৬) দায়ের করেন। মামলায় চেয়ারম্যান রুস্তম আলী ও তাঁর ছেলে সাইফুল ইসলামসহ ১১ জনকে আসামী করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে তা এফআইআর হিসেবে নথিভূক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ওসি ভূজপুরকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। গত ৩ নভেম্বর চীফ জ্যুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুন্সি মো. মশিউর রহমান এ আদেশ প্রদান করেন। গত ২৭ অক্টোবর রাতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলেও তা এতদিন গোপন করে রাখে ঘটনার সাথে জড়িতরা।
আদালতে দায়ের করা বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, নিহত শিরিন বাগান বাজার ইউপি চেয়ারম্যান রুস্তম আলীর বাড়ীতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে থাকে। রুস্তম আলীর স্ত্রী মারা যাওয়ার পর শিরিনের সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক শুরু করেন রুস্তম।শিরিনকে স্ত্রীর মর্যাদায় রাখবেন বলেও আশাস্ত করেন।
২৮ অক্টোবর লোক মুখে শুনে যে তার মেয়ে মরে গেছে। স্ত্রীকে নিয়ে মেয়ের খোজে রুস্তম আলীর ঘরে গিয়ে শিরিনের খোজ করতে থাকে। এসময় রুস্তম আলী বাদীর স্ত্রীকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ব্যর্থ হয়ে বাদী এবং তার স্ত্রীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখায়।
রুস্তম আলীর কাজের ছেলে মুরালী স্থানীয় চা দোকানে শিরিনকে হত্যার কথা ফাঁস করে দেন এবং জানান শিরিন ২৭ অক্টোবর রাতে মারা গেছে। রুস্তম আলী, তার ছেলে সাইফুল ও অন্যান্য আসামীরা মিলে স্থানীয় আন্দারমানিক বাজারের আলম টেইলার্স থেকে কাপনের কাপড় কিনে রাতের তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার দিকে অজ্ঞাতস্থানে শিরিনের লাশ গুম করে ফেলে।
মাসুম/নাজিব





